সহিংসতা সৃষ্টিকারী কনটেন্ট মুছে ফেলার জন্য বিশেষ উইং গঠনের দাবি

সহিংসতা সৃষ্টিকারী কনটেন্ট মুছে ফেলার জন্য বিশেষ উইং গঠনের দাবি
৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৪৫  

সমাজে বিদ্যমান নারীবিদ্বেষী মানসিকতা, লোকলজ্জার ভয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতায় ৮৪ শতাংশ ভুক্তভোগী অনলাইন ব্যবহার কমাতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিবারিকভাবে সচেতনতা এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বাড়ানো জরুরি যেমনি জরুরি তেমনি কঠোর আইনের পাশাপাশি গভীর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অপরিহার্য। একইসঙ্গে স্কুলভিত্তিক নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতে সমন্বয়, গোপনীয়তা রক্ষা, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগৃহীত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া, সহিংসতা সৃষ্টিকারী কনটেন্ট মুছে ফেলার জন্য বিশেষ উইং গঠন, প্রতিটি বিভাগীয় শহর ও প্রতিটি থানায় সাইবার সেল গঠন, কেন্দ্রীয়ভাবে মামলার তদারকি, লিংক ব্লকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সক্রিয় পদক্ষেপ কামনা করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

‘নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা: ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা নিশ্চিতে করণীয়’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে এই তাগিদ দেয়া হয়। সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (সিএসডব্লিউসি) ও প্রথম আলো’র যৌথ উদ্যোগে ২ মার্চ, সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক।  গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের আইনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সিএসডব্লিউসি প্ল্যাটফর্মের ফোকাল পারসন মনীষা বিশ্বাস।  স্বাগত বক্তব্য দেব ব্লাস্টের পরিচালক (পরামর্শ ও যোগাযোগ) মাহবুবা আক্তার। 

বৈঠকে‘মেয়ে নেটওয়ার্ক’–এর প্রতিষ্ঠাতা তৃষিয়া নাশতারান বলেন, অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে কনটেন্ট নামিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়; কিন্তু কেউ স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে পারে, কেউ স্টোর করতে পারে কনটেন্ট। ফলে এসবের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট থেকেই যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো আয়ের জন্য ভুয়া আইডি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বন্ধে ব্যবস্থা নেয় না; বরং রাষ্ট্রের এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি চাওয়া যায়।

বৈঠকে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) তাপতুন নাসরীন জানান, গত ৫ বছরে নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা নিয়ে ৮৭ হাজার ৭২৭টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৭০২টি অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৮০টি মামলা হয়েছে।

বক্তব্যে সাইবার অপরাধ দমনের আইনি প্রক্রিয়া ও নতুন অপরাধ সংঘটনের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ করেন ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। আর অভিযোগ পাওয়ার পর সাক্ষ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে দুর্বলতা রয়েছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক। 

অনলাইনে নিজে প্রতিদিন ঘৃণামূলক মন্তব্য ও হয়রানির শিকার হন বলে মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। নারীদের প্রতি সহিংসতায় ডক্সিং সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন। 

গোল টেবিল আলোচনায় আরো অংশ নেন, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও গণযোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা সোমা, সিএসডব্লিউসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডব্লিউআইটি) সাবেক পরিচালক কানিজ ফাতেমা, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিডিএফ) কর্মসূচিসহ সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী লাবণ্য প্রজ্ঞা। 
ডিবিটেক/পিএও/ইকে