কৃষিপণ্যে উৎসে কর অব্যাহতি চায় বাপা
কৃষিপণ্য সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। এছাড়া ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে একক অংকে নামানো, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাটের হার ৭.৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা, ৫০ শতাংশ বেশি অব্যাহতি পাওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া মিনারেল ওয়াটার (তিন লিটার পর্যন্ত) থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাপা। এ বিষয়ে সংগঠনটি জানায়, বড় শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস মিনারেল ওয়াটার। মিনারেল ওয়াটার কোনো বিলাসী পণ্য নয়। এটা জরুরি পণ্য। এই পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা কেবল অযৌক্তিক নয়, অন্যায়ও বটে।
সংগঠনটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সাময়িক প্রাপ্যতা অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া মাসভিত্তিক বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ইউপি অনুমোদন ও ভিন্ন ভিন্ন কমিশনারেটের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বন্ড সুবিধা প্রদান করাত প্রস্তাব করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশে অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন স্থানীয়ভাবে বালাইনাশক উৎপাদন ও রপ্তানি করতে প্রয়োজনীয় ৩২টি কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করেছে। আর ফল আমদানিতে করহার কমানোর প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে করহার কমানোর প্রস্তাব করে। এছাড়াও কাস্টমস ট্যারিফের সাব হেডিং নোট-২ এর অধীন কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক পণ্যের আগাম কর অব্যহতি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বালাইনাশকের ওপর শুল্ক ও কর হ্রাস, আমদানিমূল্য অনুযায়ী বালাইনাশক পণ্যের ট্যারিফমূল্য নির্ধারণ, বালাইনাশক ফরমুলেশনে ব্যবহৃত সহযোগী উপদানসমূহের সমুদয় কর অব্যহতি, জৈব বালাইনাশক, ফল উৎপাদনে ব্যবহৃত ফ্রুট ব্যাগ, স্টিকি ট্র্যাপ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের ওপর আরোপিত শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন।
৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এসব দাবি শুনে বাপার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
ব্যবসায়ীরা ভ্যাট রিফান্ড নিয়ে অভিযোগের পনিপ্রেক্ষিতে আবদুর রহমান খান বলেন, আপনাদের অনেক টাকা আটকে গেছে, ফেরত পান না, যে অভিযোগ করেছেন। আমরা এই জায়গাটাতে বড় একটা কাজ করছি। আপনারা যাতে করে অটোমেটিক্যালি ফেরত পান—আমাদের যেহেতু রিটার্নগুলোকে এখন অনলাইন করছি, আপনাদের রিফান্ড সিস্টেমও আমরা অনলাইন করছি। এখানে ভ্যাটের রিফান্ড কিন্তু অলরেডি পাওয়া শুরু হয়ে গেছে। অনলাইনে অটোমেটেড পদ্ধতিতে। ইনকাম ট্যাক্সেরটাও আমরা প্রায় কমপ্লিট, এটা যে কোনো সময় ট্রায়াল রান হচ্ছে। এগুলো যখন হয়ে যাবে তখন আমরা আপনাদের ফেরত দিয়ে দেবো, একদম আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। মানে এটাকে ডিসিপ্লিন করার জন্য আসলে আমরা আপাতত কিছুদিন ধরে রিফান্ড দিচ্ছি না, বাট এটা আলটিমেটেডলি আপনারা পেয়ে যাবেন।
ডিবিটেক/এমএআর/ইকে







