অনলাইন ক্লাস কি শেখার বৈচিত্র্য বাড়াবে, নাকি বৈষম্য?

অনলাইন ক্লাস কি শেখার বৈচিত্র্য বাড়াবে, নাকি বৈষম্য?
৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০০  

বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসকে অনেক সময় শিক্ষার আধুনিক সমাধান হিসেবে হাজির করা হয়। কিন্তু গ্রামীণ বাস্তবতা বলছে, এটি এখনো সবার জন্য সমান সুযোগের পথ নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪-২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ইন্টারনেট-অ্যাক্সেস আছে ৫৪ শতাংশের, স্মার্টফোন আছে ৭১.১ শতাংশের, আর কম্পিউটার আছে মাত্র ৩.৬ শতাংশ পরিবারের। শহরে যেখানে কম্পিউটার আছে ২১.৬ শতাংশ পরিবারে, সেখানে গ্রামে এই হার প্রায় অদৃশ্য। অর্থাৎ, অনলাইন ক্লাস চালু করলেই শিক্ষার “বৈচিত্র্য” বাড়বে, এই দাবি বাস্তবতার চেয়ে স্লোগান বেশি।

সমস্যা শুধু ডিভাইসের নয়, ব্যয়েরও। ২০২৫ সালে ব্রডব্যান্ডের ন্যূনতম মাসিক চার্জ ৫ এমবিপিএস সংযোগের জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; ১০ এমবিপিএসের জন্য ৭০০ টাকা। শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এটি সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু গ্রামীণ নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য মাসে ৪০০-৭০০ টাকা, তার সঙ্গে স্মার্টফোন, বিদ্যুৎ, মেরামত ও নিয়মিত ডেটা-ব্যয় যোগ হলে অনলাইন ক্লাস বিলাসিতায় পরিণত হয়। ফলে “ডিজিটাল শিক্ষা” অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে দাঁড়ায় “যার সামর্থ্য আছে, তার শিক্ষা”।

কোভিডকালের অভিজ্ঞতা এই সন্দেহকে আরও শক্ত করে। ইউনিসেফের জরিপে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকার মাত্র ১৫.৯ শতাংশ শিশু দূরশিক্ষায় অংশ নিতে পেরেছিল, যেখানে শহরে এই হার ছিল ২৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, অনলাইন ক্লাস শেখার সুযোগ বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান বৈষম্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। তাই গ্রামীণ বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর করতে হলে আগে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিভাইস-সহায়তা, কম-ডেটা শিক্ষামাধ্যম এবং স্থানীয় শিক্ষা-সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে অনলাইন শিক্ষা শেখার বৈচিত্র্য নয়, শিক্ষা-বৈষম্যই বাড়াবে।


লেখকঃ বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।