মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে

ভয়েস ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার দাবি

ভয়েস ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার দাবি
৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৬  
৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৮  

উৎপাদনশীলতা কমায় মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে ভয়েস মূল্যসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করলো নাগরিক প্লাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও টিপ্যাপ। ৫ এপ্রিল, রবিবার রাজধানীর কাওরান বাজারের বিডিবিএল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সংলাপের শুরুতে এই দাবির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন টেলিকম ও ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, ডিভাইস পেনিট্রেশন না বাড়ালে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন বাড়বে না। এর এর ফলে স্বাবলম্বীদের তুলনায় অস্বচ্ছল নাগরিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিটিআরসি’র ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মাদ ফারহান আলম, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারি সাদাত হোসেন, রবি আজিয়েটার চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশের টেলিকম খাতের ডেটা বিশৃঙ্খলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহতাব উদ্দিন দেখালেন ২০১৮ সালে যখন মূল্যসীমা চালু করা হয়েছিলো তখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারি ছিলো ১৮ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ৪৫ শতাংশ হয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহার ২৬ শতাংশ পরিবারের সংখ্যা ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু গত তিন বছরে প্রবৃদ্ধি আশানুরুপ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে সরকারের দেয়া সুবিধা কাজে আসছে না। তারা স্মার্টফোন উৎপাদন করছে না। ফিচার ফোনে গুরুত্ব দিলেও উৎপাদন কমছে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশে ফোনের সঙ্গে বান্ডেল প্যাক দেয়ার সুযোগ মাত্র শুরু হয়েছে। মোবাইল ম্যানু্ফ্যাক্চার ও ইমপোর্টার্সদের প্রোটেকশসন দেয়া হলেও তারা ভালো করেনি। একইভাবে একমাত্র বাংলাদেশে ভয়েসের ওপর মূল্যসীমা বেধে দেয়ায় সুপার প্রফিট পেয়ে এখানে তারা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে। রেগুলেটরি এটা না বোঝায় এখনও মান্ধাত্তা আমলের এই দায় অপারেটরদের বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

‘আইটিইউ ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে ১৩০ মেগার্জ তরঙ্গ ছিলো। এর ৬০-৭০ শতাংশ ভয়েসের জন্য ব্যবহৃত হতো। ২০২৬ এ এসে তা পৌঁছেছে ৩১৫ মেগাহার্জে। এই এক দশকে ১৪২ শতাংশ তরঙ্গ বাড়লেও অপারেটররা ৯০০ ব্যান্ডে ২জিতে মাত্র ৫ শতাংশ ব্যবহার করে ৫০ শতাংশের ওপর মুনাফা করছে’- যোগ করেন তিনি।

৩জি একটি বাজে সিদ্ধান্ত ছিলো উল্লেখ করে মহাতাব উদ্দিন বলেন, দেশজুড়ে শতভাগ ৪জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে এখনও ২০ হাজার টাওয়ার লাগবে। অথচ অপারেটররা শতভাগ কাভারেজ দিচ্ছে বলে দাবি করেছে। এসব কারণেই জিপি-কে এসএমপি বলা হলেও তা সফল হয়নি। একারণে গ্রামীণ ফোনের বাজার শেয়ার না কমে বাড়ছে। 

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউআইএম