এজ-টেক বিপ্লব:

বার্ধক্যের নতুন ভরসা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বার্ধক্যের নতুন ভরসা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:১৩  

বার্ধক্য মানেই পরনির্ভরশীলতা—এমন সনাতন ধারণা দ্রুত বদলে দিচ্ছে ‘এজ-টেক’ (Age-Tech) বা বয়সজনিত প্রযুক্তি খাত। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে মার্কিন গণমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, প্রবীণদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের মধ্যে এআই চ্যাটবট, ওয়্যারেবল ডিভাইস এবং স্মার্ট হোম প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে।

দৈনন্দিন জীবনে এআই-এর বহুমুখী ব্যবহার

প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রবীণরা এখন আর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে নেই। তারা বিভিন্ন উপায়ে এআই-কে নিজের প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছেন:

  • চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ: জটিল মেডিকেল রিপোর্ট বোঝা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে।

  • কর্মসংস্থান ও সৃজনশীলতা: অনেক প্রবীণ এআই ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বজায় রাখছেন। এমনকি নাতি-নাতনিদের গল্প বলা বা তাদের দেখভালেও এআই-এর বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ নিচ্ছেন তারা।

  • একাকীত্ব মোচন: একাকীত্ব কাটাতে এআই-ভিত্তিক কম্প্যানিয়ন বা ভার্চুয়াল সঙ্গীদের ব্যবহার বাড়ছে, যারা সারাদিন কথা বলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে।

প্রযুক্তিতে সুরক্ষাবলয়: সেন্সর ও রোবোটিকস

পরিবারের তরুণ সদস্যরা তাদের বয়স্ক স্বজনদের জন্য এখন উচ্চপ্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। বাড়িতে এআই-চালিত ক্যামেরা এবং মোশন সেন্সর স্থাপন করা হচ্ছে, যা কোনো দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি মুহূর্তেই শনাক্ত করে স্বজনদের অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া নার্সিং হোমে থাকা প্রবীণদের মানসিক প্রশান্তির জন্য ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) প্রযুক্তির ব্যবহারও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

'ভাইব কোডিং': যখন ব্যবহারকারীই ডেভেলপার

এই প্রতিবেদনের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হলো ‘ভাইব কোডিং’। এআই টুলের সহায়তায় প্রবীণরা বা তাদের কেয়ারগিভাররা নিজেরাই ছোটখাটো প্রয়োজনীয় সিস্টেম তৈরি করে নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কেয়ারগিভিং শিডিউলার: কখন কোন ওষুধ বা থেরাপি নিতে হবে তার স্বয়ংক্রিয় তালিকা।

  • ভয়েস টাইপিং সিস্টেম: যা বিশেষ করে স্ট্রোক আক্রান্ত বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন ব্যক্তিদের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

বিনিয়োগ ও আগামীর সম্ভাবনা

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ রিটায়ার্ড পারসনস (AARP)-এর তথ্যমতে, প্রবীণদের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের হার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই খাতে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। স্টার্টআপগুলো এখন প্রবীণদের দীর্ঘায়ু এবং স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করতে নতুন নতুন ডিভাইস উদ্ভাবন করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সাল নাগাদ এজ-টেক হবে প্রযুক্তির অন্যতম বৃহত্তম বাজার। প্রযুক্তি এবং মানবিক সংবেদনশীলতার এই মেলবন্ধন প্রবীণদের জীবনকে কেবল দীর্ঘায়িত নয়, বরং আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন করে তুলবে।

ডিবিটেক/বিআই/এমইউএমআই