ক্রেস্ট ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সমঝোতা চুক্তি সই

ক্রেস্ট ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সমঝোতা চুক্তি সই
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৭  

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স ইন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি (ক্রেস্ট) এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড (এনএসএল) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ এবং ক্রেস্ট(CREST) এবং এনএসএল (NSL)-এর মধ্যে দুইটি পৃথক সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি এলায়েন্সের (বিআইএসএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম; বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ; বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. জব্বার এবং ক্রেস্ট আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তফা হোসেন। 

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জনাব মো. আনোয়ার হোসেন সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে এর মাধ্যমে সরকার শিল্প ও একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সাথে গবেষণা ও উন্নয়নে নতুন সুযোগ উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের VLSI ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাসমূহ- যা আগে থেকেই স্থাপিত, এই সহযোগিতার মাধ্যমে এখন শিল্প ও একাডেমিয়া আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সীমিত পরিধির বাইরে গিয়ে শিল্প ও একাডেমিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (BSIA)-এর সভাপতি এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এম. এ. জব্বার বলেন, এই সমঝোতা স্মারক জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোকে সেমিকন্ডাক্টর উদ্ভাবনের জন্য আরও সহজপ্রাপ্য ও কার্যকর করে তুলবে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-এর সুবিধাগুলোকে CREST-সমন্বিত কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা শিল্প ও একাডেমিয়াকে আরও ফলপ্রসূভাবে একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হবো।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জনাব এম. ই. চৌধুরী শামীম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, BSIA; জনাব মুনির আহমেদ, পরিচালক, BSIA; জনাব বিদ্যুৎ চন্দ্র আইচ, যুগ্ম সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ এবং মন্ত্রলায়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MoST)-এর সম্মেলন কক্ষে ২৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, ক্রেস্ট অনুমোদিত সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা প্রকল্পসমূহকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের নির্ধারিত সুবিধাসমূহ ব্যবহার করে বাস্তব/প্রায়োগিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফ্যাব্রিকেশন/প্রসেসিং, চরিত্রায়ন ও মেট্রোলজি পরিচালনার জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ফলে  বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের-এর ল্যাবসমূহ CREST ইকোসিস্টেমের অধীনে শেয়ার্ড ন্যাশনাল রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে। একই সঙ্গে ক্রেস্ট-সংযুক্ত গবেষক/ফেলো/শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুবিধা ব্যবহার, যৌথ গবেষণা প্রকল্প, যৌথ তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের গবেষণার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্লিনরুম পুনরুজ্জীবন/আধুনিকায়নের সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; তবে সুবিধা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক তদারকি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনেই থাকবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-এর সমঝোতা স্মারকের আওতায়ও ক্রেস্ট অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চরিত্রায়ন ও সংশ্লিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এতে করে ক্রেস্ট সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-এর সুবিধাসমূহও শেয়ার্ড অবকাঠামো হিসেবে উন্মুক্ত হবে।

এই সমঝোতা স্মারক যৌথ গবেষণা বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল প্রটোকল মেনে গবেষক/শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-এর বিজ্ঞানীদের কারিগরি পরামর্শ/সহ-তত্ত্বাবধানে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে; CREST-এর একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে, তবে সুবিধা পরিচালনা বা নিরাপত্তা/প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না।

ডিবিটেক/এইচএ/ইকে