গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার এক বছরে সম্পন্নের নির্দেশ
রাজধানীতে যুক্ত হবে আরও ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি
রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানি চাহিদা পূরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার ঢাকা ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মাণাধীন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্লান্ট পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ সময় মন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে নিরাপদ পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের পানিসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানিসম্পদ সংরক্ষণ সহজ হবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপ থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার এবং দ্বিতীয় ধাপ থেকেও সমপরিমাণ ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দুই ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি থেকে প্রতিদিন মোট ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার চালু হলে রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এটি ঢাকা ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানিনির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি পরিবেশসম্মত ও জলবায়ু-সহনশীল নগর পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
//ডিবিটেক/ আরএমসি/ ইকে//





