পরীক্ষামূলক ৮ উপজেলায় চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ডে ডিজিটাল এমআইএস, এনআইডি–হাউজহোল্ড ডাটাবেজ সংযুক্তি
দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) গঠন। সুবিধাভোগী নির্বাচন থেকে কার্ড বিতরণ—সব প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ আন্তঃসংযোগের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মূল কাজ হবে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং একটি ডিজিটাল এমআইএস কাঠামো চূড়ান্ত করা।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে ডাটাবেজ সমন্বয়ের সক্ষমতার ওপর।
একীভূত ডাটাবেজে জোর
কমিটিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে—
-
একই পরিবার একাধিক সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি কমবে
-
ভুয়া বা ডুপ্লিকেট পরিচয়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বন্ধ হবে
-
আর্থসামাজিক সূচকের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় যাচাই (অটোমেটেড ভেরিফিকেশন) সম্ভব হবে
-
কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা যাবে
প্রযুক্তি খাতের একাধিক কর্মকর্তার মতে, যদি এনআইডি নম্বরকে ইউনিক আইডেন্টিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে পরিবারভিত্তিক ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে ভবিষ্যতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে একীভূত করা সহজ হবে।
নারী-কেন্দ্রিক কর্মসূচির সঙ্গে সংযুক্তির ভাবনা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান উপকারভোগী তালিকা ও ডাটাবেজকে এমআইএসে ইন্টিগ্রেট করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান ডাটাসেটকে প্রাথমিক স্তম্ভ হিসেবে নেওয়া হয়, তাহলে দ্রুত পাইলট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডেটা গভর্ন্যান্স, গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি হবে।
ঈদের আগেই বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এতে ডিজাইন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সার্ভার সক্ষমতা, ডেটা ভ্যালিডেশন প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক সুরক্ষার পরীক্ষা
ডিজিটাল এমআইএস–নির্ভর ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সফল হলে এটি দেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন মডেল স্থাপন করতে পারে। পরিবারভিত্তিক ইউনিফায়েড ডাটাবেজ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভর্তুকি, খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা কর্মসূচিও একই প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হবে।
তবে তথ্য সুরক্ষা আইন, ডেটা শেয়ারিং প্রটোকল এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন নজর থাকবে—পাইলট পর্যায়ে ডাটাবেজ সমন্বয় ও এমআইএস বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।
ডিবিটেক/এসএইচ/এসএমইএইচ







