শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া ও মানোন্নয়নে সরকারের মেগা প্ল্যান তুলে ধরলেন  শিক্ষামন্ত্রী

করোনার ভ্যারিয়েন্টের মতোই নকলের কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে

করোনার ভ্যারিয়েন্টের মতোই নকলের কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১৩  
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০১  

শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের আয়োজনে ১৫ এপ্রিল, বুধবার সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড'র অডিটোরিয়াম অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষা ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ‘মাল্টিপারপাস এক্সাম হল’ নির্মাণ করা হবে। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে সোলার পাওয়ার সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান সময়ে পরীক্ষার নকলের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, করোনার ভ্যারিয়েন্টের মতোই নকলের কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে, যা মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। প্রতিটি স্কুলে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি মনিটরিং করতে পারবেন।

এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে বিশেষায়িত স্কুল চালুর সম্ভাবনা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। 

শিক্ষা খাতে জিডিপির অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করতে দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি মেটানোর বিষয়টি সংসদ সদস্যরা বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষ করে ম্যানেজিং কমিটিতে সাবেক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করলে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতি ফিরবে। শিক্ষকদের পাঠদান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাতা মূল্যায়নে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরাই মানসম্মত শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি।

পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল নকল’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা ঠিকমতো না পড়ালে বা মানসম্মত শিক্ষার অভাব থাকলে ছাত্রছাত্রীরা নকলের আশ্রয় নেয়। আগে নকল ছিল ব্যক্তি পর্যায়ে, এখন কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘নকল’ শব্দটির সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনের আওতায় আনা যায়।

তিনি বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এতে কেন্দ্রের ভেতরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার সমস্যার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় এই দায়িত্বে যারা ছিল তারা ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার কারণে বর্তমান বাজেটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউআইএম