এইচএসসিতে পাসে এগিয়ে বিজ্ঞান
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত অন্তত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ; তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।
সদস্য প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ছেলে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ২৮ হাজার ১০০ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ৯৯ হাজার ২৯৬ জন এবং ছাত্রীয় সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৭৭ জন। ছাত্র পাসের হার ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিভাগটি থেকে এবার সবচেয়ে বেশি পাস করেছে।
এই বিভাগ থেকে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৩৭৩ জন। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ ছাত্র এবং ৭৯ শতাংশ ছাত্রী। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে উত্তীর্ণে দুই শতাংশ এগিয়ে আছে মেয়েরা।
সবচেয়ে ফেল করেছে মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা। বিভাগটি থেকে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, ছেলে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৮২ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৪৬৩ জন এবং ছাত্রীয় সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৯ জন। ছাত্র পাসের হার ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ছাত্রী ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, ছেলে পরীক্ষার্থী ৯৮ হাজার ৪০৫ জন এবং ছাত্রী ৮০ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৪০৭ জন এবং ছাত্রীয় সংখ্যা ৪৯ হাজার ৯৬৪ জন। ছাত্র পাসের হার ৫০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ছাত্রী ৬২ দশমিক ১৫ শতাংশ।
১৬ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করেন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২৬ জুন এবং শেষ হয় ১৯ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ের কিছুদিন পর কয়েকটি স্থগিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হয়।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ফলে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় সোয়া ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।
এ বছর ঢাকা বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ জন, বরিশাল বোর্ডে ৬১ হাজার ২৫ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এ ছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে (আলিম) পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৬ হাজার ১০২ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন।
প্রকাশিক ফল অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যশোরে ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বরিশালে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সিলেটে ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কারিগরিতে পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ বছর বরাবরই এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। মোট পাস এবং জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন তারা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ছাত্রের চেয়ে ৮৭ হাজার ৮১৪ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছাত্রের চেয়ে ৫ হাজার ৯৭ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন অংশ নেন। উত্তীর্ণ হন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ৩২ হাজার ৫৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়ছেন, আর ৩৭ হাজার ৪৪ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়ছেন।
শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২টি। গত বছর ছিল ১ হাজার ৩৮৮টি।
ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়ছেন ২৬ হাজার ৬৩ জন, রাজশাহীতে ১০ হাজার ১৩৭ জন, কুমিল্লায় ২ হাজার ৭০৭ জন, যশোরে ৫ হাজার ৯৯৫ জন, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৯৭ জন, বরিশালে ১ হাজার ৬৭৪ জন, সিলেটে ১ হাজার ৬০২ জন, দিনাজপুরে ৬ হাজার ২৬০ জন, ময়মনসিংহে ২ হাজার ৬৮৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৪ হাজার ২৬৮ জন এবং কারিগরিতে ১ হাজার ৬১০ জনসহ মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন।







