খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে ই-মেইলে মতামত দেয়া যাবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত

লাইসেন্সের অধীনে এলো ওটিটি, আইপটিভি 

লাইসেন্সের অধীনে এলো ওটিটি, আইপটিভি 
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:২৮  

প্রচলিত মাধ্যমের পাশাপাশি এবার সম্প্রচার আইনের অধীনে আসছে আইপি টিভি, আইপি রেডিও, ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ), ইনফোটেইনমেন্ট এবং এন্টারটেইনমেন্ট সংক্রান্ত ওটিটি সার্ভিস, স্ট্রিমিং ও ভিওডি সংক্রান্ত কার্যক্রম। নতুন ধারার প্রযুক্তি নির্ভর এসব সেবাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। 

অধ্যাদেশ জারির আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত যেসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের এই আইনের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে। তবে নতুন করে লাইসেন্স পেতে ইচ্ছুক সম্প্রচারকারীদের নির্ধারিত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী ফি পরিশোধ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর কমিশন তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার কার্যক্রমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানের সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে প্রচারমাধ্যমগুলোকে কার্যকর অবদান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খসড়ায় জননিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক-বেসামরিক গোপন তথ্য ফাঁস এবং জুয়া বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।  কোনো সম্প্রচারকারী এই আইনের ধারা ১৩(১) ও ১৩(৯) লঙ্ঘন করে কোনো সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে এ প্রচারের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। কোনো সম্প্রচারকারী জাতীয় ইস্যুতে ও জনস্বার্থে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়াও কোনো সম্প্রচারকারী যদি সরকারের অনুমোদনহীন বা লাইসেন্সবিহীন কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, বাজি, জুয়াখেলা, তামাক ও তামাকজাত পণ্য, অ্যালকোহল বা মদজাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন অথবা সাধারণ মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করেন, তবে বিজ্ঞাপনদাতা এবং সম্প্রচারের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।  জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, আদালত বা আদালতের কার্যক্রম, সেনানিবাস এলাকা এবং কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা ইত্যাদি কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রদর্শন করলে  সম্প্রচারের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

নীতিমালায় জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ এবং যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো বিশেষ মতাদর্শ প্রচার বা ব্যক্তিগত মতামত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং তথ্যের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সব ধরনের বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, খবর প্রচারের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রকৌশল বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর দায়িত্ব দিয়ে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মানোন্নয়ন ও আইনি সুরক্ষার বিধান প্রণয়নসহ সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য একটি অধ্যাদশ জারির কথা উল্লেখ রয়েছে খসড়ায়। খসড়া অধ্যাদেশের ৪ নং ধারা অনুযায়ী, সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি গঠন করবে সরকার। এই কমিটি কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কমিটিতে  তার সঙ্গে থাকবেন ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুইজন বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও একজন অতিরিক্ত সচিব।  সকল কারিগরি প্রশ্নে বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে কোজ চালিয়ে নিতে দুই কমিশনের মধ্যে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা আয়োজনের মাধ্যমে আন্তঃসমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে এমন সকল বিষয়ের নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। 

নির্বাচনের আগেই এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার আগে খসড়াটি চূড়ান্ত করতে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নীতিমালা বিষয়ে সাধারণের মতামত চেয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মতামত দিতে খসড়া অধ্যাদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সংযুক্ত  https://share.google/VGmZBnfZlXw7Ohq40 ঠিকানায় ওয়ার্ড ও পিডিএফ ফরম্যাটেেএটি পাওয়া যাচ্ছে। আর মতামত ও প্রস্তাব secretary@moi.gov.bd এবং law2@moi.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইল করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। 

ডিবিটেক/এমইউএম/ ইকে