ই-বর্জ্যকে ‘স্বর্ণখনি’তে রূপ দিচ্ছে রোবটিক্স
বিশ্বজুড়ে ই-বর্জ্য এখন এক ভয়াবহ সংকট। ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্যগুলোর প্রায় ৭৮% সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয় না, যার ফলে বছরে টনকে টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমছে। শুধু ২০২৪ সালেই উৎপাদিত হয়েছে ১.২২ বিলিয়ন স্মার্টফোন, আর জাতিসংঘের হিসেবে ২০৩০ সালে ই-বর্জ্য এর পরিমাণ পৌঁছবে ৮০ মিলিয়ন টনে, যা দিয়ে পৃথিবীকে ঘিরে ১৫ লাখ ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো যাবে।
এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের একটি রোবটিক সমাধান দেখাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। ড্যানিশ টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এমন একটি এআই-নিয়ন্ত্রিত রোবট তৈরি করছেন, যা পুরোনো ল্যাপটপ সংস্কার করে আবার বিক্রির উপযোগী করতে পারে। রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপটপের স্ক্রিন খুলে বদলাতে পারে, যে কাজটি সাধারণত সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমিকের অভাবে স্থানীয় ব্যবসাগুলো কঠিনভাবে সামাল দেয়। ইতোমধ্যেই এটি দুই মডেলের ল্যাপটপে স্ক্রিন বদলাতে পারে, এবং আরও মডেল যুক্ত করার কাজ চলছে।
গবেষকেরা বলছেন, স্ক্রিনের মতো সহজ কয়েকটি যন্ত্রাংশ বদলালেই ল্যাপটপটির দাম দাঁড়ায় প্রায় ২০০ ইউরো, যেখানে পুরো ডিভাইস রিসাইকেল করলে মূল্য পাওয়া যায় মাত্র ১০ ইউরো। ফলে ই-বর্জ্য আসলে এক অনাবিষ্কৃত ‘স্বর্ণখনি’। কারণ, এক টন বাতিল স্মার্টফোন থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যায়, তা স্বর্ণখনি থেকে উত্তোলিত এক টন আকরিকের চেয়েও বেশি।
তবে জটিলতাও রয়েছে। হার্ডওয়্যারের বৈচিত্র্য, রোবটের উচ্চ ব্যয়, এবং ডিভাইস ভেদে সূক্ষ্ম ভিন্নতা সামাল দিতে নতুন এআই প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। অনেক কোম্পানি এখনো বিষয়টির আর্থিক সম্ভাবনা বোঝেনি। তবুও ডেনমার্কসহ ইউরোপে টিয়ার ১এ, রিফার্ব, গ্রিনমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠান দিনে হাজারো ডিভাইস সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে।
গবেষকেরা আশা করছেন, রোবটিক্স ও এআই দ্রুতই ই–বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বদলে দেবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হবে, এবং পৃথিবীর অগণিত বাতিল ডিভাইস থেকে বেরিয়ে আসবে মূল্যবান ধাতু—যা প্রযুক্তি–শিল্পে জোগান দেবে নতুন প্রাণ।
ডিবিটেক/বিএমটি







