প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সহযোগিতা প্রত্যাশা তরুণ উদ্ভাবকদের
ভিসায় আটকে গেলো ‘ড্রিম অব বাংলাদেশ’!
দেশের উদীয়মান রোবটিকস সংগঠন ড্রিমস অব বাংলাদেশ। এই সংগঠনের সদস্যদের উদ্ভাবিত ‘ডিওবি হাইড্রোযান’ জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্ডারওয়াটার রোবোটিকস প্রতিযোগিতা ‘রোব সাব ২০২৫’ এর বৈশ্বিক আসরে। আগামী ১১-১৭ আগষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় নিজেদের উদ্ভাবিত রোবো যান উপস্থাপনে ডাক পেয়েছে উদ্ভাবক দল টিম ডিওবি হাইড্রোযান।
তবে অনাকাঙিক্ষত ভাবে ৩ আগস্ট ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মুষড়ে পড়েছে দলের প্রতিভাবান ২৩ তরুণ। দেশের পতাকা বহনে ভিসা পেতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পরররাষ্ট্র উপদেষ্টার সহায়তা কামনা করেছে দলনেতা মাহদীর ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা, কূটনৈতিক সজাগতা এবং সম্মানজনক প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় টিমগু হিসেবে আমাদেরকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে সহায়তা করবেন তারণ্য ও উদ্ভাবন বান্ধব অন্তবর্তী সরকার।
টিম ডিওবি হাইড্রোজেন সূত্রে প্রকাশ, দলের সবাইকে যৌথ গ্রুপ ইনভাইটেশন ও অ্যাপয়েনমেন্ট পঠিয়েছিলেন রোবো ন্যাশন ইনকরপোরেশনের ইভেন্ট ম্যানেজার চেরি কোচ সিনিয়র। অন সাইট প্রতিযোগিতায় দলের সদস্যদের ভিসা দিতে দূতাবাসকে মেইলও করেছিলেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই গ্রুপ ভিসার জন্য বাংলাদেশস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করে টিম ডিওবি হাইড্রোযান এর ২৩ জন সদস্য। এদের মধ্যে একজন সদস্য জাহিদ হাসান রুমেল ব্যক্তিগত ভিসার আবেদন করেছিলো। তাই গত ২৯ তারিখে একক ভাবে ভিসার ইন্টারভিউয়ে গেলে রিশেডিউল করে একই দিনে করা হয়।
ভিসা সাক্ষাতের জন্য ৩ আগস্ট ২৩ জন একই ড্রেসকোডেদলবেধে দূতাবাসে যায়। প্রথমে তারা ১১ নম্বর ডেস্কে যায়। সেখানে ২ জন মেন্টর তাদের বেশ ভালোভাবেই স্বাগত জানায়। এরপর তাদের ৭, ৮ ও ১০ নম্বর ডেস্কে ডাকা হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই গ্রুপের সদস্যদের আলাদা আলাদা ডেস্কে যেতে বলা হয়। অকস্মাৎ ভিন্ন ড্রেসে রোবো নেশনের ইন্টারভিউ লেটার নিয়ে অজ্ঞাত একজন একটি ডেস্কে যান। এরপর আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেককেই আইএনআর ধার ২১৪ (বি) এর অধীনে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সেখানে প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাদের কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যথাযথ প্রমাণ দিতে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে ইনভাইটেশন লেটার সহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রফাইল যথাযথ ভাবে দেওয়ার পরও বাতিলের কারণ বুঝতে পারছে না তরুণ এই উদ্ভাবক দলটি। দলের একজন সদস্য মাহদী হাসান সৌরভ বললেন, এক বছর ধরে সাধনা করে সদস্যদের ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ করে আমরা প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে হাইড্রোযান এর ৪টি ভার্সন প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটিকে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে সমুদ্রের তলদেশে রং ও মাছের ছবি চিহ্নিত করে স্বচালিত ডুবোযান তৈরি করে আমরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ গ্রহণের ডাক পেয়েছি। এখন অন দ্য স্পট এই উদ্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব মঞ্চে আমরা দেশের পতাকা উড্ডিন করতে মুখিয়ে আছি। আমরা এজন্য সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে আরো দুইটি দল সুযোগ পেয়েছে রোবো সাব ২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বে। ২০২৩ সালে বৈশ্বি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভকারী ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ডুবুরির ভিসা থাকায় তারা এবার নিঃসঙ্কোচে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে। আর ‘হাঙর’ নামের একটি রোবট তৈরি করে সমুদ্রজয়ের অভিযানে নামা টেক অটোক্র্যাটস–বেঙ্গল সাব দলের ১৯ সদস্যও যাচ্ছে এবারে প্রতিযোগিতায়। কিন্তু গত এপ্রিলে নাসার হিউম্যান এক্সপ্লোরেশনে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শীর্ষ ১০ দলের তালিকায় থেকেও বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দল ড্রিমস অব বাংলাদেশের ‘হাইড্রোযান’ দলটি হোঁচট খেলো ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। তবে তাদের সামনে এখনো আশা যোগাচ্ছে ফাস্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ ২০২৪। কেননা ওই ইভেন্টে বাংলাদেশ রোবোটিকস টিমের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হলেপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে গ্রিস সরকার সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দলকে ভিসা প্রদান করেছিল। এবারও তেমনি উদ্যোগ নেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন টিম ডিওবি হাইড্রোযান দলের সদস্য মৃদুল হাসান, মোঃ শহিদুল ইসলাম বুলবুল, মোঃ মুবাস্সিরুল ইসলাম, মাহাদির ইসলাম, মোঃ আতহার শিহাব, আলিফ জাহান প্রাচুর্য, কামরুল ইসলাম, তামিম হোসেন, মেহেদী হাসান, সাফিন আহমেদ, সাদমান সাঈদ, মোঃ সিফায়েত হোসেন রোহান, আবরার আতিফ রহমান, মোঃ নাঈম হোসেন, নাইমোর রহমান, মোহাম্মদ নূরুল হুদা, আসিফ মোহাম্মদ সামি, মেহেদী হাসান রবিন, দেওয়ান মোঃ ফয়জুল্লাহ মুনিম, এস এম মহসিন, মোসাম্মৎ লিজা বেগম, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং ফাতেমা ইয়াসমিন।







