‘আলোর গতিতে’ টেরাফ্যাব প্রকল্প চালু করতে চাচ্ছেন ইলন মাস্ক 

‘আলোর গতিতে’ টেরাফ্যাব প্রকল্প চালু করতে চাচ্ছেন ইলন মাস্ক 
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২১  

টেরাফ্যাব প্রকল্পের জন্য চিপ শিল্পের সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ইলন মাস্কের দল। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলার এই যৌথ প্রকল্পে অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়ালস, টোকিও ইলেকট্রন ও ল্যাম রিসার্চের মতো কোম্পানির কাছে দ্রুত মূল্য ও সরবরাহের সময়সীমা চাওয়া হয়েছে ।

যা জানা গেছে
ইতিমধ্যেই মাস্কের প্রতিনিধিরা ফটোমাস্ক, সাবস্ট্রেট, এচিং ও ডিপোজিশন সরঞ্জামের পাশাপাশি ক্লিনিং ডিভাইস ও টেস্টিং টুলের জন্যও প্রস্তাবনা চেয়েছেন। মাস্ক চান প্রকল্পটি ‘আলোর গতিতে’ এগিয়ে যাক। তাই সরবরাহকারীদের কাছে অত্যন্ত কম সময়ে মূল্য দিতে বলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সোমবারের মধ্যে দর চাওয়া হয়েছে ।

পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ
টেরাফ্যাব প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে সিলিকন উৎপাদন শুরু করা। প্রথম পর্যায়ে অ্যাস্টিনের টেসলা ক্যাম্পাসে একটি পাইলট লাইন স্থাপন করা হবে, যার সক্ষমতা মাসে ৩ হাজার ওয়েফার । তবে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বিশ্লেষকরা ৫ থেকে ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বলে ধারণা করছেন। 

প্রকল্পটি এতটাই বিশাল যে, উৎপাদন হবে কেবল ভূ-পৃষ্ঠেই নয়, কক্ষপথেও। কারণ চিপগুলো মূলত ব্যবহার হবে স্পেসএক্সের স্পেস ডেটা সেন্টার, এক্সএআই-এর এআই পরিষেবা, টেসলার রোবট্যাক্সি ও অপটিমাস রোবটের মতো প্রকল্পে।

সহযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেল যোগ দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য বার্ষিক ১ টেরাওয়াট কম্পিউটিং শক্তি সরবরাহ করা । অন্যদিকে মাস্কের বর্তমান চিপ অংশীদার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস-এর কাছেও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। তবে সূত্র জানিয়েছে, স্যামসাং সরাসরি সহায়তার পরিবর্তে তাদের টেক্সাসের টেলর কারখানায় টেসলাকে বেশি উৎপাদন ক্ষমতা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে ।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাস্ক সরাসরি টিএসএমসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তবে শিল্পবিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইলন মাস্ক অতীতে স্পেসএক্স ও টেসলা নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করলেও, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির অত্যধিক জটিলতা ও বিপুল অর্থের প্রয়োজনীয়তার কারণে টেরাফ্যাব অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।   সূত্র: রয়টার্স