মুক্ত বিটিআরসি কর্মীরা; ৯ ডিসেম্বর সমন্বিত বৈঠক
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিটিআরসি’র সামনে থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে ‘অবৈধ’ মোবাইল আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের আশ্বাসে ৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থমন্ত্রণালয়, বিটিআরসি ও এনবিআর বৈঠক পর্যন্ত এই আন্দোলন শিথিল রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর পরপরই বিটিআরসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
তবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোবাইল কেনা-বেচা বন্ধ থাকবে। ওই দিনের বক্তব্যে ট্যাক্সের বেশি পার্থক্য হয়; এনবিআর এর সঙ্গে বনিবনা না হলে ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর সিস্টেম চালু হবে না।
৭ ডিসেম্বর, রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিটিআরসি’র পাশে বটতলায় সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, বিটিআরসি-তেই অর্থ উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব ও বিটিআরসি’র সঙ্গে বৈঠক হবে।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমাদের হাতে সময় নেই। আমরা এক মাস ৭ দিন ধরে এই আন্দোলন করছি। আজ অবশেষে বৈঠক করেছি। অর্থ উপদেষ্টা দেশের বাইরে থাকায় আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অবরোধ শেষ করছি। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে তার আশ্বাসেই এই সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, আমরা এনইআইআর এর বিরুদ্ধে নই। তবে ওই দিন আমাদের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেয়া, এলসি সহজ করে দেয়া হলে আমরা আর আন্দোলন করবো না। এর ব্যত্যয় হলে আরও কঠোর আন্দোলন দেয়া হবে। এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হবে না। অনলাইন-অফলাইন সব ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বিক্রি বন্ধ থাকবে।
অপরদিকে সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেছেন, বিটিআরসি’ বলেছে আমাদের সকল মোবাইল নির্দিধায় লিস্টেড করে নেবে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও যদি কেউ আমদানি করতে চায় তবে তা সহজ করে দেয়া হবে। আমাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ট্যাক্স কমাতে আজ রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। অর্থ সচিবের সঙ্গেও কথা বলবেন। আমরা বলেছি ট্যাক্স নিয়ে যদি কোনো সমঝোতা না হয় তবে এনইআইআর বাস্তবায়ন পেছাতে হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি সহজীকরণ করতে আগামী ৯ ডিসেম্বর বিটিআরসি ও এমবিসিবি বৈঠক হবে।
অবরুদ্ধ বিটিআরসি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
প্রসঙ্গত, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এর ঠিক আগেই বড় ধরনের আন্দোলনে নামলেন ব্যবসায়ীরা। দিন-ভর সড়ক অবরোধ করায় আগারগাঁওয় প্রশাসনিক এলাকার মানুষসহ সংলগ্ন হাসপাতালের রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সগুলো বিপাকে পড়ে। চরম দুর্ভোগের শিকার হন পথচারীরা। এ বিষয়ে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের (শেরেবাংলানগর জোন) সহকারী কমিশনার (এসি) জাকির হোসেন বলেন, বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে অন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। সন্ধ্যায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ফের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য ডেকে নেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। এসময় এমবিসিবি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি প্রতিনিধি দল বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে বৈঠক শেষে কর্মসূচি স্থিগিতের সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন নেতারা। এমবিসিবির যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, এনইআইআর পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হলে লক্ষাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় বিশেষ একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে, আর বাড়তি কর ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অনলাইন অফলাইন সবক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।
ডিবিটেক/আইএইচ







