বাংলাদেশে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ হুমকি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলের

বাংলাদেশে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ হুমকি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলের
২০ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৩৬  

বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতার বিরুদ্ধে যাথারীতি জঘন্য মিথ্যাচার করে চলেছে ভারতীয় একটি ইউটিউব চ্যানেল। । একইসাথে বাংলাদেশে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ হুমকি দিয়েছেন চ্যানেলটির ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। ওই ইউটিউব চ্যানেলটি ইতিপূর্বেও একাধিকবার বাংলাদেশ নিয়ে ন্যাক্কারজনক মিথ্যাচার ও মনগড়া বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ কোলকাতার রাজনীতিক ও সুধীসমাজ তীব্র সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করেছে চ্যানেলটিকে। 

তারা এর সঞ্চালক ময়ূককে বদ্ধ উন্মাদ বলে নিজেরাই ইউটিবসহ সোস্যাল মিডিয়ায় নানা ভিডিও আপলোড করেছেন।

তবে, চ্যানেলটিতে এবার যা করা হলো তা একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রীতিমতো হুমকি।

কোলকাতার ‘আর ডট বাংলা’ নামক ইউটিউব চ্যানেলের ‘টকশো’র এ ধরনের মিথ্যাচারপূর্ণ একটি  ভিডিও নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ‘আর ডট বাংলা’র ভিডিও আপলোড করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একইসাথে তিনি যশোর জেলা বিএনপি পরিচালিত মিডিয়া গ্রুপেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

সেখানে অমিত বলেছেন, টক শোতে ‘যশোরের মাটিতে ভারতবিরোধিতার ছক কষা হয়েছে’ মর্মে যা বলা হয়েছে, তা নির্জলা মিথ্যা। এছাড়াও, পাকিস্তানের কোনো নেতার যশোরে আসার কাহিনিকেও তিনি ‘সিনেমার গল্পের মতো’ ও ‘আজগুবি কল্পকাহিনি’ বলে অভিহিত করেছেন।

অমিতের পাশাপাশি চ্যানেলটির মিথ্যাচারের শিকার হয়েছেন তার চাচাতো ভাই তানভীরুল ইসলাম সোহানও। যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক সোহান সম্পর্কে বলা হয়, তিনি হিজবুত তাহরিরের সদস্য। এই বক্তব্যকে অমিত ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ বলে নিন্দা জানান।

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ডাক্তার শেখ মহিউদ্দিনকে নিয়েও কুৎসা রটনা করা হয় টক শোটিতে। সঞ্চালক মাহমুদুর রহমানকে ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন; যা সত্যের পুরোপুরি অপলাপ।

প্রতিক্রিয়ায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আদ দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত দেশেই নেই, অথচ ভারতীয় মিডিয়া তাকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বলে প্রচার করেছে।

মাহমুদুর রহমান সম্প্রতি যশোর আসেন বটে, তবে ওই দিন অমিত তার সঙ্গে যশোর বিমানবন্দরে নেমেছিলেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা-ও পুরোই মিথ্যা। প্রকৃত তথ্য হলো, প্রাচ্যসংঘের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই দিন মাহমুদুর রহমান ঢাকা থেকে সকালের ফ্লাইটে যশোর আসেন, আর ফিরতি ফ্লাইটে অমিত ঢাকায় যান।

বিএনপি নেতা অমিত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে ইদানীং এ ধরনের আজগুবি ও কল্পকাহিনি হরহামেশা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননে সরস গল্প তৈরি করছে।

তবে ‘এই ধরনের কুৎসায় বিচলিত নন’ উল্লেখ করে অমিত প্রসঙ্গক্রমে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে দেন- ‘যখন ভারতের পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লেখা হয় তখন বুঝবে আমি সঠিক পথে আছি। আর পক্ষে লিখলে বুঝবে আমি ভুল পথে আছি।’ 

অমিত বলেন, আফসোস, ভারতীয় মিডিয়ার সেই চরিত্র আধুনিক সভ্য সময়েও বদলায়নি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশবাসীকে এসব ‘দুর্গন্ধযুক্ত পচা ভিউখোর কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ডিবিটেক/জেই/ইক