মিন্টো রোডে ডিএমপি সাইবার সেন্টার উদ্বোধন
রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার পশ্চিম পার্শ্বে মিন্টো রোডে ডিবি কম্পাউন্ডে স্থাপন করা হলো পুলিশের নিজস্ব সাইবার সাপোর্ট সেন্টার। সেন্টারটিতে আধুনিক সুবিধার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, দক্ষ তদন্তকারী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নাগরিকদের যে কোনো ডিজিটাল হয়রানি সমাধানে ২৪ ঘন্টাই সাপোর্ট দেবে। নারী ও শিশুদের বিশেষ সেবা দেয়া হবে। এখান থেকে অনলাইন প্রতারণা, সামাজিক মাধ্যমে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফাঁস, আর্থিক জালিয়াতিসহ সব ধরনের সাইবার সমস্যার সমাধান মিলবে।
২০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার এই সেন্টারটি উদ্বোধনী বক্তব্যে এমনটাই জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাত আলী।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করছে। সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইন গ্যাম্বেল। এর মাধ্যমে লক্ষ-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই নতুন বাস্তবতায় জনগণের নিরাপত্তায় সর্বচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রযুক্তি নির্ভর, সময়োপযোগী ও প্রমাণভিত্তিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর সাইবার নিরাপত্তায় যেহেতু সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল; তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করি- ডিজিটাল প্লাফর্ম ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে আমাদের জানান।
এসময় সাইবার সাপোর্ট সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।’
তিনি আরো বলেন, 'সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যপাক ভাইরাল হয়েছে। আপনারা দেখেছেন পুলিশ যখন অরাজকতা ঠেকানোর চেষ্টা করছিল, তখন আমার অফিসারদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি অনুরোধ করব- আমার অফিসারদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করবেন না। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ধরনের কাজ চলতে থাকলে নিজের ঘরবাড়ি নিজেদের পাহারা দিতে হবে।'
ডিএমপি সূত্রে প্রকাশ, প্রাথমিকভাবে ১২টি ডেস্ক নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে এই সাপোর্ট সেন্টার। প্রতিটি ডেস্কে থাকবেন প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য, যারা প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন এবং সাইবার অপরাধ দমন বিষয়ে বিশেষ দক্ষ। বিশেষ করে নারীদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত অভিযোগে দায়িত্ব পালন করবেন নারী পুলিশ কর্মকর্তা, যাতে ভুক্তভোগীরা নিশ্চিন্তে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। ফেসবুক, ইমো কিংবা মোবাইল হ্যাক এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দিন দিন নিত্যনতুন সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এআই দিয়ে তৈরি কিংবা ডিপফেক ভিডিও অনেক মানুষের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নারীরা সাইবার বুলিংসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন। তাই নারীরা যাতে অভিযোগ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, এ জন্য নারীদের জন্য সাইবার সেন্টারে নারী অফিসাররা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ই-মেইল ও টেলিফোনের মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান মিলবে। যারা প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না কিংবা বিভিন্ন কারণে থানায় যেতে দ্বিধায় থাকেন, তাদের জন্য এটি আরও সহজতর সমাধান হবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, সাইবার সেন্টারের দায়িত্বে থাকবেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তার অধীনে প্রাথমিকভাবে ৫০ জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে সেন্টারটি। সাইবার অপরাধসংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করতে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন থানায় সাইবারসংক্রান্ত মামলা বা জিডি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি ডিবিতে জমা হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি মামলা, জিডি বা অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে সার্বক্ষণিক আপডেট জানতে পারবেন।
ডিবিটেক/এফএল/ইক



