১৭ ডিসেম্বরই শাকসু নির্বাচন, পোস্টার, দেওয়াল লিখন ও আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা

১৭ ডিসেম্বরই শাকসু নির্বাচন, পোস্টার, দেওয়াল লিখন ও আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা
১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:১৯  
১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫২  

দীর্ঘ ২৬ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পূর্বনির্ধারিত ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক রেখেই পূর্ণাঙ্গ তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। 

তফশিল অনুযায়ী ২০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২২ নভেম্বর ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ, ২৩ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ, ২৫ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদান, ২৬ নভেম্বর মনোয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ, ২৭ নভেম্বর মনোয়নপত্র যাচাই বাছাই, ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন, ১ ডিসেম্বর প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে প্রকাশিত ‘শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনি আচরণবিধিমালা-২০২৫’ এর ৭ ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

প্রচার-প্রচারণায় লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও দেওয়াল লিখন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় শুধু সাদাকালো লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের সাইজ অনধিক ৬০ সেন্টিমিটার ও ৪৫ সেন্টিমিটার এর বেশি হতে পারবে না। কোনো রকম পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে কোনো প্রার্থী নিজের সাদাকালো ছবি ব্যতীত অন্য কারো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত কোনো ধরনের স্থাপনা, দেওয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছ-পালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোন দণ্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের ক্ষতিসাধন করা যাবে না।

এ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো সংগঠন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো কালি, চুন ও কেমিক্যাল দ্বারা দেওয়াল বা যানবাহনে কোনো লিখন, মুদ্রণ, ছাপচিত্র বা চিত্রাঙ্কন করে নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো রকমের পোস্টার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন না।

আলোকসজ্জা ও স্থাপনা অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো সংগঠন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো গেট, তোরণ, টেন্ট ও ক্যাম্প আলোকসজ্জা করতে পারবেন না। কোনা প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো রকমের স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে মঞ্চ স্থাপন করতে পারবেন না।

তফশিল ঘোষণাকালে শাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, নির্দিষ্টি তারিখে নির্বাচন করতে সক্ষম তারা। এতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে। এ সময় নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, তারিখ আগানো ও পেছানোর দাবির মধ্যে ১৬ নভেম্বর, রবিবার বিকেলে আইসিটি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ। এর আগে দুপুর ২টায় ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি সংগঠন ১০ ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে। অন্যদিকে নির্বাচন নিয়ে কিছু ছাত্র সংগঠনের বাড়াবাড়ি ও চাপ প্রয়োগকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, আপ বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।

তারা বলেন, প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে 'একটি গোষ্ঠীর চাপে পড়েছে' এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি এড়িয়ে চলছে। শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর যারা এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে, তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াসহ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ স্বাভাবিক এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডিবিটেক/ডিএস/ইক