সিলেটে শেষ হল ২০তম বিডিনগ সম্মেলন
প্রশিক্ষণ ল্যাব গড়ছে আইএসপিএবি; এসওএফ থেকে সহযোগিতা চায় বিডিনগ
দেশের ইন্টারনেটকে সুরক্ষিত ও সুবিস্তৃত করতে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের পেশাদার প্রশিক্ষণের জন্য বনানীস্থ স্থায়ী অফিসে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন এবং সেখানে পরিবর্তীত প্রযুক্তির হালনাগাদ ও ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতে সরকারের বিটিআরসি ও বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারনেট সেবদাতাদের বণিক সংগঠনটি। আর বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের কাছে থাকা এসওএফ ফান্ড থেকে ছোট একটা অংশ দিলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজতর হবে বলে আবেদন করেছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপ (বিডিনগ)।
বিডিনগ এর আয়োজনে সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল ও রিসোর্টে চার দিনব্যাপী ‘বিডিনগ-২০ সম্মেলন ও কর্মশালা’র সম্মেলনের সমাপনীতে এই প্রস্তাব করা হয়। সম্মেলনে তিনটি গ্রুপে অংশ নেয়া ৯০ প্রশিক্ষণার্থী ও ফেলো সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২৫০ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ও নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিডিনগের সভাপতি রাশেদ আমিন বিদ্যুত এবং ফখরুল আলম পাপ্পুকে ইসি চেয়ার হিসেবে ঘোষণা করেন সাধারণ সম্পাদক বরকতুল আলম বিপ্লব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আলম পারভেজ বলেছেন, সম্প্রতি দেশ ডিডস আক্রমণের শিকার হলে আপনাদের প্রচেষ্টাতেই তা মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। তাই আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বেস্ট প্রাক্টিসটাকে নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনতে হলে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। তা না হলে এই খাত পিছিয়ে পড়তে হবে। এই জন্য আইএসপি-তে নতুন ভ্যালু অ্যাড করে নতুন নতুন সেবা আনতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে আয়োজন সহযোগী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিপিসি'র ড. মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, দেশের ইন্টারনেট সেবাকে নিরাপদ ও সচল রাখায় প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজটি সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বিডিনগ দক্ষিণ এশিয়ায় পাইওনিয়ার হয়ে শতপ্রতিকূলতার মধ্যে এই কাজটি করায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, দেশের ১৬-১৭টি জেলায় ভূমিন্ত্রণালয়ের ডিজিটালইজেশনের পাইলটিং করেছে পার্শ্ববর্তী একটি দিশের কোম্পানি করলেও তাদের সেবা আমাদের মোটেই বোধগম্য হচ্ছিল না। কে সার্ভিস দিচ্ছে, কোথায় কি করছে সে বিষয়ে তারা আমাদের তা জানায় না। তাই তারা যখন আমাদের সঙ্গে বোঝাড়া না হওয়ায় চলে গেলো; তখন প্রযুক্তিও তাদের সঙ্গে নিয়ে গেলো। তাই আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন কোনো বিদেশী কোম্পানিকে এখানে দেবো না। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশের কোম্পানিগুলো ৬ কোটির মতো খতিয়ান অনলাইনে আপ করা হয়েছে। এখন মোবাইলেই খতিয়ান দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুই বার সিকিউরিটি নিয়ে আমাদের বিব্রত হতে হয়েছে। তাই আমরা আশা করি, সাইবার সুরক্ষায় আমাদের বাজার চাহিদা বুঝে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে; এতে করে আমরা যেনো স্বনির্ভর হতে পারি। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নতক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কলাবেরেশন করেন।
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম, ইন্টারনেট সেবা এখন নলেজ বেজড ইন্ডাস্ট্রিতে ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখন এআই ভিত্তিক মনিটরিং ও ক্লাউড কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই টেকনলোজিকে পলিসি সাপোর্টেড হতে হবে। তাই বিডিনগকে অনুরোধ করবো নতুন টেলিকম অ্যাক্ট ও ডাটা সুরক্ষা আইন বিষয়ে আপনাদের অবজারভেশন পলিসি মেকারদের জানাবেন। আমি মনে করি এটাও নগের একটি বিশেষ কাজ।
অপরদিকে আইএসপিএবি মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁঞা জানান, বিডিনগ এর মাধ্যমে প্রতিবছর ১২০০ থেকে ১৫০০ প্রকৌশলী তৈরি করি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে তার এপ্রিকট সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চাকরি করে। তিনি বলেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের প্রায় সকল ইঞ্জিনিয়ারই আমাদের দেশের। বিডিনগ ট্রাস্টিরাই এটা করে থাকেন। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সাইবার সুরক্ষায় আমরা সারা বছর প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিতে আইএসপিএবি'র ৮ম তলায় একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপন করছি। এটি তৈরি হলে প্রতি মাসেই এই প্রশিক্ষণ দিতে পারবো। তাই আমরা আশা করবো বিপিসি বা বিটিআরসি এই ট্রেনিং সেন্টার করতে আমাদের সহায়তা করবেন।
সমাপনীতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিডিনগ ট্রাস্টি চেয়ার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ইন্টারনেটের রূপান্তরের কারণে নেটওয়ার্ক অপারেশনের পাশাপাশি এবার কোবারনেটিস ডিপ্লয়মেন্ট নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ছে। নতুন ধরণের ডাটা ফ্লো নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। শেখার জায়গায় এখন পরিবর্তন আনতে হবে। রোআ ডিপ্লয়মেন্ট বাংলাদেশ ভালো করলেও এর ভ্যালুয়েশন হচ্ছে না। এটা করা হলে নেটওয়ার্কের অনেক ধরনের অ্যাবনরমাল সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
এর আগে বিডিনগ ২০ ফেলো হিসেবে গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন বিটিসিএল এর মিথি আক্তার, ফাইবার অ্যাট হোমের তাসনুফা জেরিন মৌ,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহাদী হাসান টুটুল, বাংলট্র্যাক কমিউনিকেশন এর সৈয়্যদ আব্দুর রহিম, আম্বার আইটি’র নূর ই আলম শেহাব, আইএফআইসি ব্যাংকের মেহেদী আল আমিন, ব্র্যাক ব্যাংক এর সাইফুল হাসান শান্ত ও সোল-বিডি’র সাদ আহনাফ।
ডিবিটেক/আইএইচ/ইক



