মোবাইল ফোনে ৫৭% শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি
বিটিআরসিতে মোবাইল আমদানিকারকদের বৈঠক
এনইআইআর বাস্তবায়নের আগে বহুপক্ষীয় সভার অংশ হিসেবে আন-অফিসিয়াল স্মার্টফোন বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থার স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুল হকের নেতৃত্বে বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি দল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিটিআরসি কার্যালয়ে ১০ নভেম্বর, সোমবার, অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক এই সভায় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি ও গ্যাজেট অরবিটের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও সুমাসটেকের স্বত্ত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াস, সিনিয়র সহসভাপতি ও মোল্লা টেলিকমের স্বত্ত্বাধিকারী শামীম মোল্লা এবং মোতালেব প্লাজা শাখার সহসভাপতি ও অনিক টেলিকমের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ পিন্টুসহ অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।
অন্যদিকে কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুল হকের নেতৃত্বে পরিচালক নূরন্নবী, উপপরিচালক মেহফুজ বিন খালেদ ও আহসানুল হাবীব মিথুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রমতে, এক ঘণ্টারও কিছু বেশি সময় ধরে চলা সভায় পাঁচ দফা দাবি জানায় ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে সকল মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীই প্রযোজ্য শুল্ক পরিশোধ করে মোবাইল ফোন আমদানি করতে পারবেন এবং উৎপাদনকারী ব্র্যান্ড লিখিতভাবে অঙ্গীকার দেবে যে, ভবিষ্যতে মোবাইল ফোন আমদানিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাবি করা হয়, স্মার্টফোন আমদানির পর ‘বিল অফ এন্ট্রি’ জমা দিলে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ‘আইএমইআই’ নম্বর ‘সাদা’ তালিকাভুক্ত করবে বিটিআরসি। এই দুই ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেটের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিজেদের খুচরা বিক্রয় (কোনো এক্সক্লুসিভ শপ) ব্যবসায়ে নিজেরা প্রবেশ করবে না এবং খুচরা বিক্রেতাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে গত কয়েক বছরে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা বিঘ্নিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোনো হ্যান্ডসেট ব্ল্যাকলিস্ট করার ক্ষেত্রে এক বছরের সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) দেওয়া এবং মোবাইল ফোন উৎপাদকদের বৈষম্যমূলুক দর নির্ধারণে পরিবর্তন করার।
তবে এসব দাবিে বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন মোবাইল বিজনেন কমিউনিটির সভাপতি মোঃ আসলাম। তিনি জানান, শিগগিরই তারা বিষয়টি নিয়ে এনবিআর এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মো. আসলাম বলেন, সরকার যে ট্যাক্স কাঠামো চালু করেছে, তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব করে তুলছে। নতুন এই নীতি চালু হলে আমাদের পথে বসতে হবে। ২০১৭ সাল থেকে বিদেশি কিছু কম্পানি দেশে অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে ফোন তৈরি করছে, ফলে তারা খুব কম ট্যাক্সে বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। কিন্তু যারা বিদেশ থেকে ব্র্যান্ডেড ফোন, যেমন আইফোন বৈধভাবে আমদানি করে বিক্রি করেন, তাঁদের ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত অস্বাভাবিক ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। ফলে দুই লাখ টাকার ফোন ট্যাক্সসহ দাঁড়াচ্ছে প্রায় তিন লাখ ১৪ হাজার টাকা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম বলেন, সরকার যে ট্যাক্স কাঠামো চালু করেছে, তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব করে তুলছে। নতুন এই নীতি চালু হলে আমাদের পথে বসতে হবে। ২০১৭ সাল থেকে বিদেশি কিছু কম্পানি দেশে অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে ফোন তৈরি করছে, ফলে তারা খুব কম ট্যাক্সে বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। কিন্তু যারা বিদেশ থেকে ব্র্যান্ডেড ফোন, যেমন আইফোন বৈধভাবে আমদানি করে বিক্রি করেন, তাঁদের ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত অস্বাভাবিক ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। ফলে দুই লাখ টাকার ফোন ট্যাক্সসহ দাঁড়াচ্ছে প্রায় তিন লাখ ১৪ হাজার টাকা।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে দেশের মোবাইল ফোন বাজারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি কম্পানি একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ পাবে। এই কম্পানিগুলোর নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, ফলে তারা সহজেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু দেশের ৯৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী- যারা এই খাতের মূল চালিকাশক্তি, তারা এক ধাক্কায় ব্যবসা হারাবেন। দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত অস্বাভাবিক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্মার্টফোন তথা মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে বিটিআরসি। ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর নামক এই ব্যবস্থায় দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্মার্টফোন আমদানি ও বিক্রি বন্ধ করতে চায় সংস্থাটি।
ডিবিটেক/প্রবা/ইক



