জুলাই অভ্যুত্থানের পর টেলিকম ও আইসিটি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসলেও এর অনুশীলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই দুই খাতের শ্বেতপত্র নিয়ে কাজ করা অধ্যাপক প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। ১৪ জানুয়ারি, বুধবার রাজধানীর ডিবিবিএল ভবনে অনুষ্ঠিত 'আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা' বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, আজকে আলোচনায় টেলিকম আইন ভবিষ্যতমুখী ও আশাবাদ জাগিয়েছে বলে স্বাগত জানালো হলো। তবে আলোচনায় এর প্র্যাক্টিসের বিষয়টি একেবারেই আসেনি। পলিসি শিফটের কারণে প্র্যাক্টিসে যে পরিবর্তন আসবে তার গ্যারান্টি কি? এটা নিয়ে আমার অনেক আশঙ্কা আছে। এ কারণেই আমরা শ্বেতপত্রের সংস্কারসংক্রান্ত সুপারিশে বিষয়টি তুলে ধরেছি। সুনির্দিষ্টভাবে টেলিকম খাতের দায়িত্বে থাকা বিটিআরসি’র অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ এতোটাই বিতর্কিত ও ভঙ্গুর তারা কিভাবে সেই পরিবর্তন হ্যান্ডেল করবেন? এছাড়াও বিটিআরসি’র সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল হয়ে উঠেছিলো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার ফান্ড। এক্ষেত্রে তাদের কোনো নজরদারিই ছিলো না।
‘উভয় মন্ত্রণালয়েই অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করেন না’ মন্তব্য করে এই শিক্ষাবিদ বলেন- ২০২১ এর পর থেকে আইসিটিডিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতায় ব্যবহৃত ইজিপি’র ব্যবহার সবচেয়ে কম হয়েছে। সঙ্কটের কথা হলো ই-জিপি’র প্রবর্তক এটুআই ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি টেন্ডারও ই-জিপিতে করেনি। আরও দুর্ভাগ্যজনক হলো এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো ইউনিটি বা সক্ষমতাই ছিলো না- যোগ করেনি তিনি।
আইসিটি বিভাগের অধীন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ট্রেনিং কর্তৃপক্ষে পরিণত হওয়া; ট্রেনিংয়ের নামে অপচয় ইত্যাদি বিষয় সংস্কারে উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন নিয়াজ আসুদুল্লাহ। বলেছেন, খোদ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাতেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নেই।
‘যে মন্ত্রণালয় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দায়িত্বে আছেন, তারা ইন্টারন্যাল গভর্নেন্সের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন থেকে ইমপ্রেস করছেন না, তো সেই ক্ষেত্রে এই ট্রান্সফরমেশনের ক্রেডিবিলিটিটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?- প্রশ্ন রাখেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির এই প্রধান ব্যক্তি। তার ভাষায়, মন্ত্রণালয়ের যে নিজস্ব প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম বা রেকর্ড তা ডিজিটাইজড না। ফলে যখন অসঙ্গতি ধরা পড়ে তদন্তে তার সুরাহা করা যায় না। গর্ভর্নেন্সে কোনো ফিডব্যাক লুপের ব্যবস্থা নেই।
সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ট্রান্সফরমেশন সবসময়ই সব সরকারের পলিটিক্যাল ক্যাম্পেইনের একটি বড় অংশ। আগামীতেও যে সরকার আসবে সেক্ষেত্রেও চাপ থাকবে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর। সেই চাপ পাশ কাটিয়ে কিভাবে তারা এই ক্যাম্পেইন এগিয়ে নেয়া হবে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রচারণা, আলাপ বা গাইডলাইন নেই। আলাপ হচ্ছে না এই খাতের পরিসংখ্যানগত বিভ্রান্তি নিয়েও। ফলে আগামীতে নীতি নয় বাস্তবায়নের সক্ষমতাও এখন বড় প্রশ্ন।
ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত এই নীতি আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। টিপাপ সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ, রবি’র সাবেক এমডি মাহতাব উদ্দিন আহমদ, বন্ডস্টেইন প্রতিষ্ঠাতা মীর শাহরুখ ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ডিবিটেক/এমইউএম/ইকে