৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবায় নতুন দিগন্ত
- মার্চ থেকে স্পিড পোস্টে ৮১১ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে
- বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ
- ই-কমার্স ও লজিস্টিকসে আধুনিকায়ন করছে ডাক বিভাগ
ঐতিহ্যবাহী চিঠি ও পার্সেল পরিবহনের সীমা ছাড়িয়ে ই-কমার্স, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, পণ্য সরবরাহ ও ফুলফিলমেন্ট সেবায় প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তুলছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে ৯ অক্টোবর, শুক্রবার দেশে পালিত হবে বিশ্ব ডাক দিবস। এ উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করবে ডাক বিভাগ। এ সময় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবা বিষয়ক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ এমন সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবার পাশাপাশি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব ডাক ও লজিস্টিকস সেবা প্রতিষ্ঠানের দিকে এগোচ্ছে। ই-কমার্স ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং, পোস্ট পিকআপ ও ডেলিভারি, ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফল পরিবহন এবং উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর মাধ্যমে সেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। দ্রুত ও সাশ্রয়ী পার্সেল সেবা হিসেবে স্পিড পোস্ট ই-কমার্স, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষক এবং অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ডাকসেবার নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহনেও ডাক বিভাগের সেবায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহনের পরিমাণ ছিল ২৪৩ টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তা বেড়ে ৩১৬ টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৩ টন বা প্রায় ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জনের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ডাক বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ ও ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে সঞ্চয় ব্যাংক কার্যক্রম ছাড়া ডাকসেবা চালু থাকবে।
১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর Universal Postal Union (UPU) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে ১৯৬৯ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত UPU Congress-এ ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটির উদ্দেশ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডাক ব্যবস্থার অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বর্তমানে বিশ্ব ডাক খাতও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। UPU-এর ২০২৬-২০২৯ কৌশলগত কাঠামোয় ডিজিটালাইজেশন, ই-কমার্স, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও আধুনিক লজিস্টিকসকে ডাক নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ডাক বিভাগও জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী ডাক ও লজিস্টিকস সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ডাক নেটওয়ার্ক ক্রমেই ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও জনসেবার বিস্তৃত অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
//ডিবিটেক/জেডইউ/এসএমপ/এমভিএনও//





