ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে অচলাবস্থা

চুয়েটে শাটডাউনে শিক্ষা-দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির

  • ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন চলছে
  • শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মবিরতিতে দাপ্তরিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে
  • আবু সাদাত সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে

চুয়েটে শাটডাউনে শিক্ষা-দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৫  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে একদিকে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা, অন্যদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রমও। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলার মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মসূচি যুক্ত হওয়ায় চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন।

আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার শিক্ষার্থীদের শাটডাউনের পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে। সকাল থেকে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ‘৫৬?’ লেখা কার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা করেন। তাদের প্রশ্ন ছিল—নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো।

পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও বিস্তৃত হয়। ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আন্দোলনের দশম দিনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এদিন শিক্ষার্থীরাও কমপ্লিট শাটডাউন চালিয়ে যান।

চলমান আন্দোলনের মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্বে যুক্ত হলেও ক্যাম্পাসে তার উপস্থিতি নিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের মধ্যে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করে সার্কিট হাউস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং শিগগিরই ক্যাম্পাসে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্দোলন নিয়ে সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির বলেন, গতকাল চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিনিধিরা দাবিটির পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যুক্তি ও বাস্তবতাও তুলে ধরেন।

সামিউন বাসির বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্য, আন্তরিকতা ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে শুনেছেন এবং প্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে ৩ অক্টোবর, শনিবার আন্দোলনের ১২তম দিনে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ অচলাবস্থা নিরসনে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এর আগে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, চোখ বেঁধে প্রতিবাদ, প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, গণস্বাক্ষর, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং প্রতিবাদী কনসার্টের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন। ১ অক্টোবরের কর্মসূচিতে উপাচার্য ভবনের সামনে প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও সেশনজট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারছে না।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। অন্যদিকে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

//ডিবিটেক/ইবাদাত হোসেন/এসএমপি/বিপিসি//