বকেয়াকে ‘ফাও খাওয়া’ বলে শিবিরের অপপ্রচার

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে ছাত্রদল নেতার ২৭০ টাকা বকেয়া থাকায় ‘ফাও খাওয়া’ বলে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে হল শিবিরের বিরুদ্ধে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের ভুক্তভোগী দুই নেতা অভিযোগ করেন, হলের ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ হোসেনের কাছ থেকে জোর করে ভিডিও ধারণ করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শিবির বলছে, তারা না বলে খেয়েছে ও […] The post বকেয়াকে ‘ফাও খাওয়া’ বলে শিবিরের অপপ্রচার first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

বকেয়াকে ‘ফাও খাওয়া’ বলে শিবিরের অপপ্রচার
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০  

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে ছাত্রদল নেতার ২৭০ টাকা বকেয়া থাকায় ‘ফাও খাওয়া’ বলে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে হল শিবিরের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের ভুক্তভোগী দুই নেতা অভিযোগ করেন, হলের ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ হোসেনের কাছ থেকে জোর করে ভিডিও ধারণ করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শিবির বলছে, তারা না বলে খেয়েছে ও দলের ক্ষমতা দেখিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয় একাত্তর হল ক্যান্টিনের মালিক তৌহিদ হোসেনকে বলে বাকি খায় হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ। ওই সময় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে খাতায় লিখতে বললে পলাশকেই মনে রাখতে বলেন মালিক। তবে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হল শিবিরের সমন্বয়ক আশিক বিল্লাহ ও হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও শিবিরের সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন মিলে ক্যান্টিন মালিকের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও স্টেটমেন্ট নেয়। যে ভিডিওতে তিনি বলেছেন- ‘ছাত্রদল নেতা না বলে খেয়েছে।’ পরবর্তী সময়ে সেগুলোকে ‘ফাও খাওয়া’ বলে প্রচার করে শিবির নেতারা।

বিজয় একাত্তর হল ক্যান্টিনের মালিক তৌহিদ বলেন, ‘সেদিন যে দুই ভাই আসছিলেন, তারা বলেছিলেন- ভাই সবসময় তো পকেটে টাকা থাকে না, আমরা তো স্টুডেন্ট মানুষ, কয়দিন পরে টাকা হলে দিয়ে দিব। তখন আমি বললাম, ভাই আপনারা যদি খাতা খোলেন, তাহলে আরও ৫০০ জনের খাতা খুলতে হবে, তখন আমি বিষয়টা মেইনটেন করতে পারব না। আপনার টাকা নাই থাকতে পারে। খাবেন আপনারা, হিসাব রাখবেন, পরে বিলটা দিয়ে দিবেন, সমস্যা নাই, সেখানে আমার কোনো কথা থাকবে না। আমি আমার ম্যানেজারকেও বলে দিছি, ভাইরা আসবে, খাবে, যখন যা দরকার হবে দিয়ে দিও। সময় মতো ভাইরা টাকা দিয়ে দিবে, সেটা পাঁচ দিন পরে হোক বা দশ দিন পরে হোক।’

তিনি বলেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে ভাইয়েরা দুই/তিন দিন খাইছে। পরে আমার ম্যানেজার ওই দুই শিক্ষার্থীকে বলছে যে, ওই ভাইরে চিনেন? তখন শিক্ষার্থীরা আমার ম্যানেজারকে বলছে, কেন ভাই, উনি কি ফাও টাও খায় নাকি? পরে ম্যানেজার বলছে, ফাও খায় না, কিন্তু টাকা-পয়সা না থাকলে বলে তৌহিদ ভইয়ের সঙ্গে কথা হইছে এ ব্যাপারে, পরে দিয়ে দিবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাকি ছিল ২৭০ টাকা। আর ভাইরা টাকাটা দিয়েও দিছে। ব্যাপারটা এত বাজেভাবে ছড়াবে আমিও ভাবতে পারি নাই। এটা ভাইদের জন্য খারাপ হয়ে গেছে। আমারও ভালো লাগে নাই। আর আমার ম্যানেজার এটা ভুল করে ফেলছে।’

এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ বলেন, ‘পূর্ব পরিচয় থাকার কারণে বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে মালিকের সম্মতিতে ২৭০ টাকা বকেয়া থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যেটা কিনা একজন ছাত্রের জন্য খুবই সাধারণ একটা বিষয়। সেই বিল এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাকে শিবির কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে, সেটা ভাবতেও অবাক লাগছে। যেই আমরা আওয়ামী আমলে বিরোধীদলের রাজনীতি করেছি, হল থেকে বিতাড়িত হয়ে হাজার হাজার টাকা বাসা ভাড়ার পেছনে খরচ করেছি, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে ২৭০ টাকা ফাও খাওয়ার হাস্যকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নাম যদি রাজনীতি হয়, তবে সেই রাজনীতিতে আমরা পিছিয়েই আছি।’

বিজয় একাত্তর হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সোলায়মান হোসেন রবি বলেন, “রোববার দুপুরের দিকে শিবিরের একজন কর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি, ছাত্রদলের পরিচয়ে হল ক্যান্টিনে বাকি খাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদে আলোচনা করার পর স্যাররা সদস্যদের নিয়ে একটি মিটিং আয়োজন করেন। সবার সামনে ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ ভাই ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করায় শিবিরের নেতাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হন। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি, হলের শিবির কর্মীরা তাকে দিয়ে জোর করে এই বক্তব্য আদায় করেছেন।”

তবে হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তারা বাকি খায়নি। তারা মূলত না বলে খেয়েছে। দলের প্রভাব দেখিয়ে ক্যান্টিন মালিককে হুমকি-ধামকি দিয়েছে। এমনকি সমালোচনার পরে তারা টাকা পরিশোধ করেছে।’

The post বকেয়াকে ‘ফাও খাওয়া’ বলে শিবিরের অপপ্রচার first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.