পাঠ্যপুস্তককে টিকটকের রূপ দিচ্ছে নতুন স্টার্টআপ 'স্ক্রলএড'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটানা স্ক্রল করার প্রবণতা বা 'ডুমস্ক্রলিং' তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এই অভ্যাসকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ 'স্ক্রলএড' নিয়ে এসেছে এক অভিনব প্ল্যাটফর্ম। এটি যেকোনো টেক্সট ফাইল বা কঠিন পিডিএফ পাঠ্যপুস্তককে টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম রিলসের মতো ভার্টিক্যাল ফিডে রূপান্তর করতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার দুই শিক্ষার্থী উৎসব গুপ্ত ও রেবেকা নেফের গড়ে তোলা এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত শিক্ষার্থীদের স্ক্রোলিংয়ের অভ্যাসকে পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
‘টেকক্রানচ ডিসরাপ্ট স্টার্টআপ ব্যাটেলফিল্ড ২০০’ প্রতিযোগিতায় উপস্থাপিত এই অ্যাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে ছোট ভিডিও, অডিও, ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজে পরিণত করে।
এতে ওপর-নিচে স্ক্রল করে নতুন বিষয় জানা যায়, আর ডানে-বামে সোয়াইপ করে কোনো নির্দিষ্ট টপিকের গভীরে প্রবেশ করা যায়।
উদ্যোক্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের বই পড়তে বাধ্য না করে তাদের পরিচিত ডিজিটাল মাধ্যমেই কঠিন বিষয়গুলো আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বাণিজ্যিক প্রসারে স্ক্রলএড মূলত ‘ফ্রিমিয়াম’ মডেল অনুসরণ করছে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি ফিডের পাশাপাশি ‘স্ক্রলএড প্রো’ সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের জন্য বার্ষিক লাইসেন্স সুবিধা থাকবে।
প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকেরা এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠের অগ্রগতি ও এনগেজমেন্টের তথ্য দেখতে পাবেন। ভবিষ্যতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ সাজিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে এই স্টার্টআপটির।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





