চার এআই এজেন্টে নজর
ইনোভেশন ফেয়ারে ড্যাফোডিলের এআই
- ড্যাফোডিল প্রদর্শন করছে চার এআই এজেন্ট
- এজেন্টিক এআইয়ে অটোমেশনের নতুন উদ্যোগ
- মেলায় এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন
নতুন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। মেলার উদ্বোধনী দিনে এক হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে ড্যাফোডিলের এজেন্টিক এআই-নির্ভর চারটি পণ্য, যেগুলো শিক্ষা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়তা আনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি।
১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘Innovate to Market’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
মেলায় ব্যক্তি পর্যায়ের শতাধিক উদ্ভাবক ও নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা নিজেদের তৈরি এক হাজারের বেশি পরিবেশবান্ধব ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন। সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরাও এতে অংশ নিয়েছেন।
প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্টলগুলোতে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। তরুণ উদ্ভাবকদের উপস্থিতিতে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই আয়োজনের অন্যতম প্রযুক্তি আকর্ষণ ড্যাফোডিলের চারটি এআই এজেন্ট-চালিত পণ্য। এর মধ্যে ‘এডুভাস’ একটি শিক্ষা ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ড্যাফোডিলের ‘এআই প্রফেসর’ সফটওয়্যারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শেখার সুযোগ তৈরি করে। শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করাই এর লক্ষ্য।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ড্যাফোডিল এনেছে ‘পারফেক্ট এইচআর’। সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জীবনবৃত্তান্ত বাছাই, ভিডিও সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ এবং কর্মীদের কর্মদক্ষতা বিশ্লেষণে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মী প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সম্ভাবনাও আগে থেকে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘লিডারশিপ অপারেটিং সিস্টেম (ওএস)’ বা সিইও ড্যাশবোর্ড এজেন্টিক এআই ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য এক পর্দায় বিশ্লেষণের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারকেরা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে ড্যাফোডিল।
ড্যাফোডিল গ্রুপের জয়েন্ট ডিরেক্টর মুহাম্মাদ রফিকুল আলম জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘এজেন্টিক এআই’ তৈরি করা। এর মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন কাজ, বিক্রয়, ক্রয় এবং মানবসম্পদ বিশ্লেষণে ব্যয় হওয়া সময় কমিয়ে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের তৈরি এসব প্রযুক্তি দেশের প্রযুক্তি ও কৃষিখাতসহ বিভিন্ন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বাজারের মধ্যে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে এসব প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়াই এবারের মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
//ডিবিটেক/এনপি/এসএমই/এমআইএসটি//





