সংযোগ, শিল্প রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ডিজিটাল অবকাঠামোতে হুয়াওয়ের অংশীদারিত্বে চীন মৈত্রীতে টেককানেক্ট
- ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার ঢাকায় বসছে বাংলাদেশ টেককানেক্ট
- আলোচনায় থাকবে ডিজিটাল সংযোগ, শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- টেলিটকের প্রথম বাণিজ্যিক ৫জি চালুতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল হুয়াওয়ে
দেশের পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, উচ্চগতির সংযোগ, শিল্পের উৎপাদনশীলতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্য সামনে রেখে ঢাকায় আয়োজন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’। চীনভিত্তিক বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অংশীদারিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জাতীয় সংযোগ অবকাঠামো এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি হলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের। স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার কথা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিবের। সম্মেলনের কর্মসূচিতে মূল প্রবন্ধ, একাধিক প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আজকের কর্মসূচিতে যা থাকছে
সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা অনুষ্ঠানটির। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির রূপরেখা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় নির্ধারিত রয়েছে। এতে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকার এবং সংযোগব্যবস্থা উন্নয়নের দিকগুলো আলোচনায় আসতে পারে।
দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয় ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও সংযোগব্যবস্থা। দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক, আধুনিক ডিজিটাল সেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশের মতো বিষয় এই আলোচনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে প্রযুক্তি অভিজ্ঞতা ও ভিআইপি পরিদর্শন পর্বের সূচি রয়েছে। দুপুরের বিরতির পর বেলা ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনা। এর বিষয় শিল্পের দক্ষতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও উৎপাদনশীলতা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে কাজের গতি, পরিচালন দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তা এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হতে পারে।
বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তৃতীয় প্যানেল আলোচনার বিষয় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’। এআইয়ের দ্রুত বিকাশ, বিভিন্ন খাতে এর প্রয়োগ, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে সমাপনী পর্ব নির্ধারিত রয়েছে; বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি অবকাঠামোয় হুয়াওয়ের ভূমিকা: যাচাইযোগ্য তথ্য
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে হুয়াওয়ের অংশীদারিত্ব নতুন নয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ৫জি প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার নথিভুক্ত নজির রয়েছে। হুয়াওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ৫জি নেটওয়ার্ক চালু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকাসহ ছয়টি স্থানে এ নেটওয়ার্ক চালুর কথা জানানো হয়েছিল।
সরকারি পর্যায়েও হুয়াওয়ের সঙ্গে সহযোগিতার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং হুয়াওয়ে উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক পরিবেশ বিকাশে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। একই বছরের নভেম্বরে আয়োজিত বাংলাদেশ টেককানেক্ট সম্মেলনে সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অব থিংস নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতেও হুয়াওয়ের অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ‘৫জি উপযোগী অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পে ডিডব্লিউডিএম ট্রান্সমিশন সরঞ্জাম সরবরাহের একটি চুক্তি হুয়াওয়ে ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের কনসোর্টিয়ামের নামে নথিভুক্ত রয়েছে। সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মূল্য ছিল ২৬.৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৩১ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার ২৯ টাকা ১৬ পয়সা।ে তবে এটি একটি নির্দিষ্ট ক্রয়চুক্তির তথ্য; একে বাংলাদেশের পুরো ডিজিটাল অবকাঠামোয় হুয়াওয়ের বিনিয়োগ বা অবদানের মোট পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রযুক্তি সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র
বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬-এর শিডিউলে জাতীয় সংযোগ অবকাঠামো, শিল্পের ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পৃথক আলোচ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে সম্মেলনে নতুন কোনো বিনিয়োগ, চুক্তি, প্রকল্প বা প্রযুক্তি চালুর ঘোষণা দেওয়া হবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে হুয়াওয়ের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি, টেলিটকের ৫জি চালুতে সহায়তা এবং সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে অংশগ্রহণের নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্মেলনটি দুই পক্ষের সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে নতুন চুক্তি, প্রকল্পের পরিধি, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিমাপযোগ্য সুফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//





