গবেষণায় ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপান্তরে যে দিকনির্দেশনা তুলে ধরলেন ইউনেস্কো চেয়ার
প্রযুক্তির রূপরেখায় প্রধানমন্ত্রীর টেকসই অঙ্গীকার
- উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি বাস্তবায়ন
- গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা
- প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবনা দ্রুত কার্যকরের প্রতিশ্রুতি
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের আমূল পরিবর্তন এবং উদ্ভাবনী গবেষণানির্ভর রূপরেখা বাস্তবায়নে সরকারের সর্বাত্মক সমর্থনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়াটারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মপন্থা নির্ধারণের এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘টেকসই উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম বাংলাদেশি ইউনেস্কো চেয়ার ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার। মূল প্রবন্ধের বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার আগে যেসকল বক্তা তাদের বক্তব্যে সকলের সামনে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, এর মধ্য দিয়েই আমাদের আগামী দিনের কর্মপন্থাগুলো মোটামুটি ঠিক হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তিনি উপস্থাপনায় যে বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন, এগুলি যদি আমরা ধীরে ধীরে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারি তাহলেই আমরা আমাদের লক্ষে পৌঁছতে সক্ষম হবো। এখানে আর কোনো বক্তব্যের প্রয়োজন নেই। পূর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্যে আমাদের আগামী দিনের, সরকার বা দেশের কর্মপন্থা কী হওয়া উচিত তা পরিস্কার ভাবে উঠে এসেছে। তাই ব্যাবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের কাছে আমি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করছি। প্রেজেন্টেশনের উঠে আসা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করবো।”
মূল প্রবন্ধে প্রযুক্তি ও অর্থনীতির কৌশলগত যোগসূত্র টেনে ড. আনিসুজ্জামান বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে হলে আমাদের এখন ২০০ বিলিয়ন ডলারের জাম্প লাগবে। এজন্য শিল্পায়নের প্রবৃদ্ধি অর্জনে উদ্ভাবন ও গবেষণা সাপোর্টেড একটি অর্থায়ন কৌশল দরকার হবে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া যৌথ অংশীদারিত্বে ইকো সিস্টেম গড়ে ২০২৯ সালের আগে আইপি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রফতানি বৈচিত্রকরণে গবেষণা ও উন্নয়নে জিডিপি’র ১ শতাংশ বিনিয়োগ লাগবে।” তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিষয়ে বলেন, “আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিন্তু সেগুলো প্রোপার ফাংশনাল নয়। তাই বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিআইআরসি, এবং বাংলাদেশ পরমাণু কমিশনগুলোর অব্যহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।”
গবেষণায় বিশেষায়িত পরিকাঠামোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এখন একটা রিসার্চ ফোকাসড পোস্টগ্রাজ্যুয়েশন ইউনিভার্সিটি দরকার, যেখানে আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী, বিদেশী অংশীদারদের যুক্ত করতে পারবো। একই সঙ্গে সমন্বিত এক বা একাধিক প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে এআই এর ওপর একটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্লাটফর্ম দরকার। ডিপিডিপি ও এনএসডিকে এনরিচ করতে হবে।” গবেষণা তহবিলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের একটি ফান্ডিং কন্টিনিউয়াম দরকার। যেখান থেকে বেসিক রিসার্চ থেকে শুরু করে কামার্সিয়ালাইজেশন পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। কেননা রিসার্চ ছাড়া ইনোভেশন ও ইউনকিউবেশন পর্যন্ত পৌঁছোনো যাবে না।” জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “সবার আগে বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ইনোভেশন টেকনোলজি ডেভেলপমেন্টের বিকল্প নেই। আমরা এখন সভরেইন ইনোভেশন ক্যাপাসিটি ডেভেলপ করতে চাই। কঞ্জুমার হিসেবে নয়, নিজেদের মাটিতেই এটা করতে হবে। প্রত্যেকটি খাতকে এর মাধ্যমে রূপান্তর করা যাবে।”
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের (বায়েসা) সভাপতি ড. এ এস এম সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমই/এমআইএসটি//





