ওলবাকিয়া প্রযুক্তিতে এডিবি ও টেমাসিক ফাউন্ডেশনের পাইলট প্রকল্প

ডেঙ্গু দমনে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগিদ টেলিকম ও বিজ্ঞানমন্ত্রীর

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সভা-সেমিনারের বদলে মাঠে গবেষণালব্ধ সমাধান প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে
  • ওলবাকিয়া (Wolbachia) প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় শিগগিরই পাইলট প্রকল্প শুরু হবে
  • এডিবির অনুদানে দেশীয় গবেষকদের যুক্ত করে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চালানো হবে

ডেঙ্গু দমনে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগিদ টেলিকম ও বিজ্ঞানমন্ত্রীর
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৯  

ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা বা সভা-সেমিনারের বৃত্তে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ২৫ অক্টোবর, রবিবার  বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘Wolbachia-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রস্তাব সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে মাঠে নেমে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিজ্ঞানীদের শুধু তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য প্রজেক্ট নিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ডেঙ্গু ও মশা দমনে একক প্রচেষ্টার চেয়ে যৌথ বৈজ্ঞানিক সমন্বয় জরুরি। যেকোনো নতুন জৈব-প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে তা যেন দেশের আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাশ্রয়ী হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ওলবাকিয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশা নিধনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এবং টেমাসিক ফাউন্ডেশনের অনুদানে একটি সমন্বিত পাইলট প্রকল্প খুব দ্রুতই কাজ শুরু করবে। এই প্রকল্পে দেশীয় খ্যাতনামা গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জিয়ং শি (Zhiyong Xi), সিমবায়োসিয়া এসইএ-এর সিইও ডেভিড কুয়েক ইয়ং কি এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, আইইডিসিআর, বিসিএসআইআর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/এমএএমএস/এমএসআই/এমআইএসটি//