আসল নাকি নকল, অন্তর্জালে বাড়ছে সংশয় ও অবিশ্বাস

আসল নাকি নকল, অন্তর্জালে বাড়ছে সংশয় ও অবিশ্বাস
৪ আগষ্ট, ২০২৬ ০৯:৫৫  

ইন্টারনেট বা অন্তর্জালের প্রসারে বিড়ালদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। মিম থেকে শুরু করে ইউটিউবের ভিডিও বা প্রভাবশালীদের ব্যবসার ধরন- সবকিছুতেই প্রাণী বা পশু-পাখিদের আদুরে ভিডিওগুলো ছিল মানুষের নির্ভেজাল আনন্দের অন্যতম উৎস। বিরক্তি আর প্রচারসর্বস্ব খবরের ভিড়ে এই ভিডিওগুলো ছিল প্রশান্তির জায়গা। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে সেই আনন্দ এখন অনেকটাই ম্লান হতে বসেছে।

আগে প্রাণীদের কোনো ভিডিও দেখলে মনে একধরনের কোমলতা কাজ করত। আর এখন প্রথমেই মনে সন্দেহ জাগে- ভিডিওটি কি আসলেই সত্যি, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো?

আনন্দ যখন যান্ত্রিক ও মেকি
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক জেসিকা ম্যাডক্স বলেন, প্রাণীদের ভিডিও দেখার একটি বড় আনন্দ হলো এটা ভেবে রোমাঞ্চিত হওয়া যে, বাস্তবে এমন একটি সুন্দর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই আনন্দের অনুভূতি পুরোপুরি কেড়ে নেয়। 

যখন কেউ বুঝতে পারেন যে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তখন সেই আনন্দ অনেকটাই মেকি বা প্রতারণাপূর্ণ মনে হয়। মানুষ মূলত এই ভিডিওগুলোর মাধ্যমে পর্দার ওপারে থাকা অন্য একটি প্রাণের সঙ্গে একধরনের মানসিক সংযোগ অনুভব করে। ভিডিওটি নকল হলে সেই সংযোগ আর থাকে না, বরং এটি মানুষকে পৃথিবীর প্রতি আরও বেশি হতাশ ও সন্দেহপ্রবণ করে তোলে।

মাঝে মাঝে নিখুঁতভাবে বানানো এসব ভিডিও দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। মন্তব্যের ঘরে গিয়ে খোঁজেন আসল সত্যটা কী। কেউ কেউ হয়তো এটি দেখে সাময়িক আনন্দ পান, কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বেশ ভয়াবহ হতে পারে।

বড় বিপদের পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অন্তর্জালে অনেক সময়ই নির্দোষ ও আদুরে বিষয়ের হাত ধরে বড় ধরনের ক্ষতিকর জিনিসের প্রবেশ ঘটে। মানুষ যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো নকল বিড়াল বা কুকুরের ভিডিওর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে, তবে ধীরে ধীরে তারা রাজনৈতিক নেতাদের ভুয়া ছবি, সাজানো অপরাধের ভিডিও বা আপত্তিকর বিষয়গুলোর প্রতিও সহনশীল হয়ে উঠবে।

এর পাশাপাশি চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন সাধারণ কনটেন্ট নির্মাতারা। যাঁরা সত্যিকারের ভিডিও বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের পক্ষে যন্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ, একটি যন্ত্রকে ঘুমাতে হয় না, সে চোখের পলকে অসংখ্য ভিডিও তৈরি করতে পারে। ফলে সত্যিকারের ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে আয় করার পথটি আরও কঠিন হয়ে যাবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী একদল কুকুরের দড়ি লাফ খেলার একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। কুকুরগুলোর গলায় একই রকম ফিতা বাঁধা ছিল। ভিডিওটি দেখতে একদম আসল মনে হলেও আসলে তা যন্ত্রের বানানো ছিল। সত্যটা জানার পর ওই নারী বলেন, তিনি কখনোই ভাবেননি এভাবে বোকা বনে যাবেন। এমন ঘটনা বারবার প্রমাণ করছে যে, অন্তর্জালে এখন আর সত্যিকারের ভরসা করার মতো কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

ডিবিটেক/বিএমটি