ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব দিল নগদ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক অধিদপ্তরের রাজস্ব অংশ হিসেবে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে নগদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মহবুব আনাম নগদের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার, সফটওয়্যার আধুনিকায়ন এবং ডাক বিভাগের তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব দিল নগদ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৯  

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক অধিদপ্তরের রাজস্ব আয়ের মালিকানা অংশ হিসেবে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রতীকী চেক হস্তান্তর করেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদ।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ, আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মহবুব আনামের উপস্থিতিতে নগদ লিমিটেডের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মহবুব আনাম বলেন, সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের নগদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে ডাক বিভাগকে কার্যকর তদারকি বাড়াতে হবে এবং সফটওয়্যার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে এবং ডাক বিভাগকে আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগদ নিয়ে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও নগদের সমন্বিত দল নতুন কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। এ সময়ে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে কোনো সমস্যা হয়নি; বরং লেনদেন ও রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

তিনি জানান, আগের অর্থবছরে ডাক অধিদপ্তরকে ১৪ কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হলেও চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৪১ হাজার কোটি টাকা, যা মে মাসে বেড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহযোগিতায় সফটওয়্যার আধুনিকায়ন করা গেলে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

টেলিকম সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ডাক বিভাগের লোগো ব্যবহার করে পরিচালিত নগদে সরকারের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ডাক বিভাগকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবাও তুলনামূলক কম ব্যয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

নগদের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শামসুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় এবং সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালে যেখানে মাসিক লেনদেন ছিল মাত্র ২ কোটি টাকা, সেখানে ভবিষ্যতে তা ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার ভ্যাট ও কর বাবদ মাত্র ১০ লাখ টাকা পেলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই নগদ সরকারের কোষাগারে ৩১৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও কর জমা দিয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান লাভজনক অবস্থানে পৌঁছাবে এবং দীর্ঘদিনের লোকসানি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টেলিকম সচিব বিলকিস জাহান রিমি, নগদের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আফজাল আহমেদ এবং চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শামসুল ইসলাম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমএ//