দিনাজপুরে শিক্ষকের স্নেহময় ভালোবাসায় শিশুর স্কুলযাত্রা

সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও প্রশংসার জোয়ার

  • ছোট্ট রাজকন্যার আবদারে শিক্ষকের মমতা
  • ফেসবুকে ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে ৫০ লাখের বেশি লাইক
  • ভালোবাসা ও নিরাপত্তার নিদর্শন 'আমাদের পাঠশালা'

সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও প্রশংসার জোয়ার
২৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৮  

সময় তখন সকাল ৮টা ১০ মিনিট। বাবার হাত ধরে স্কুলে এসেছে ছোট্ট এক রাজকন্যা। কিন্তু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে তার একদমই ইচ্ছা করছিল না। তার একটাই আবদার—প্রধান শিক্ষক যদি তাকে কোলে নেন, তবেই সে ক্লাসে যাবে। ঠিক তখনই সেখানে মোটরসাইকেল চালিয়ে উপস্থিত হন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিক। তিনি দেয়ালের পাশে বাইকটি রেখে এগিয়ে যান এবং হাসিমুখে শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে ক্লাসরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। সেই হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তের সিসিটিভি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

দিনাজপুরের ‘আমাদের পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর বেবি প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ভিডিওটি নেটিজেনদের মন জয় করেছে। ভিডিওটি শেয়ার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, “প্রিন্সিপাল স্যার নিমিষেই পটিয়ে ফেললেন। তবে শর্ত একটাই প্রিন্সিপাল স্যারের কোলে উঠেই ক্লাসে যাবে।” গত ২২ জুলাই রাত ৮টার পর প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ৪৮ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজটি ২৩ জুলাই স্থানীয়দের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ জুলাই হতেই ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ৫০ লাখের বেশি লাইক অর্জন করে।

ভিডিওর নিচে নেটিজেনরা শুভকামনা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে শত শত মন্তব্য করেছেন। একজন শিক্ষক লিখেছেন, “একজন শিক্ষককে যে এই ছোট ছোট শিশুদের জন্য কত কি করতে হয়... যখনই মনে করি এই পেশা ছেড়ে দিব, তখন মনে হয় আমি আমার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবো।” অপর একজন লেখেন, “মাশাআল্লাহ, আমাদের শিক্ষক সমাজের গর্ব আপনি... আপনার জন্য মন থেকে দোয়া রইলো।” শৈশবের আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে একজন লিখেছেন, “আমিও অনেক কান্না করতাম, আমার প্রিন্সিপাল স্যার, হুজুর স্যার আমাকে কোলে নিয়া হাঁটত, অনেক আদর করত।”

শিক্ষক আসলেই বাবা-মায়ের মতো—এই কথাটির বাস্তব উদাহরণ যেন তৈরি করেছেন প্রধান শিক্ষক রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিক। যে বয়সে অনেক শিশু স্কুলে আসতে ভয় পায়, সেই বয়সে শিক্ষকের এই স্নেহ ও মমতার মানবিক আচরণ প্রমাণ করে যে শিক্ষালয় হওয়া উচিত ভালোবাসা ও নিরাপত্তার এক নিশ্চিন্ত নীড়।
//ডিবিটেক/এএসএফ/এসএমই//