রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে আলোচনায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’

আলেচিত ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’র চিকিৎসা কী?

  • অটোনমিক নিউরোপ্যাথির কারণে হঠাৎ অচেতন হওয়ার উপসর্গ
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বহুমুখী স্বাস্থ্য জটিলতা
  • দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা

আলেচিত ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’র চিকিৎসা কী?
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৬  

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত শারীরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে জটিল স্নায়ুবিক রোগ ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। যার ফলে তিনি মাঝে মাঝেই ক্ষণিকের জন্য অচেতন বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই শারীরিক অক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনের কারণে তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।

২৪ জুলাই, শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর চিকিৎসাবিজ্ঞানে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি হলো শরীরের ভেতরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুগুলোর এক ধরনের ক্ষতি বা অবক্ষয়জনিত রোগ। আমাদের অজান্তেই শরীরের যেসব কাজ অনবরত চলছে—যেমন হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, হজমপ্রক্রিয়া এবং মূত্রথলি নিয়ন্ত্রণ—সেসব নিয়ন্ত্রণ করে এই অটোনোমিক স্নায়ুতন্ত্র। ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর ওপর নির্ভর করে রোগের লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে; যেমন—শোয়া বা বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত বা কম ঘাম হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া এবং মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো উপসর্গ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। এ ছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, কেমোথেরাপি, গুলেন-ব্যারি সিনড্রোম কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে। গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান তানজিনা হোসেন জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানো, পর্যাপ্ত পানি পান, বিশেষ ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
//ডিবিটেক/ এমভিপি/ইডিপি//