রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের তথ্য স্রেফ গুজব বলে জানালেন মির্জা ফখরুল

ডিজিটাল ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নে গুরুত্ব সরকারের

  • প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়ন, আধুনিক ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে সরকার
  • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত খবরের পেছনে কোনো সত্যতা নেই এবং এটি স্রেফ গুজব
  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তর তরান্বিত করা হচ্ছে

ডিজিটাল ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নে গুরুত্ব সরকারের
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:০২  

প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভর করে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

২৪ জুলাই, শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে Dacca Institute of Research and Analytics (DAIRA) আয়োজিত Bengal Delta Conference 2026 (BDC 2026)-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই রূপরেখা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ইস্যুতে গণমাধ্যমে যে পদত্যাগের খবর শোনা যাচ্ছে, তাতে কান দিবেন না। এটি স্রেফ গুজব। সারাবিশ্বে গণতন্ত্র অনেকটা হুমকির মুখে, তবে আমরা সবসময় গণতন্ত্রের ধারায় বিশ্বাস করি এবং বর্তমান সরকার জনগণের কাছে সবসময় দায়বদ্ধ।"

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে স্বাস্থ্যগত অথবা অন্য যে কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেটার অপশন আছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে আমরা জানি না।" মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করেন যে এই বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।

সম্মেলনে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।" বৈশ্বিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দূর করে ব্যাংকিং খাত ও শিল্পে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের মাধ্যমেই গতি ফেরানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

'Bangladesh and a Changing World: Uncharted Times, Emerging Orders, and the Politics of Care' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

//ডিবিটেক/ করেসপন্ডেন্ট/ইডিপি//