অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. রকিবুল হাসান খান রকিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত থাকবেন।
অনলাইন জুয়া, অনিয়ম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা নিয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান খান রকি, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯ জুলাই জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুসারে তিনি নির্ধারিত খোরপোশ ভাতা পাবেন। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে আগাম খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা একাধিক ব্যাংকে বিভিন্ন হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, যার একটি অংশ অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রকিবুল হাসান খান রকি অফিসে তুলনামূলকভাবে নিরিবিলি স্বভাবের ছিলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করতেন না। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাধারণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং এক নির্বাহী পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
//ডিবিটেক/ডিপিও/এমএসআই//





