প্রতীক্ষার ই-ভ্যাট রিফান্ড চালু

প্রতীক্ষার ই-ভ্যাট রিফান্ড চালু
৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৭  

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে সাব মডিউল হিসেবে ই-ভ্যাট সিস্টেমে সংযুক্ত হলো রিটার্ন এন্ট্রি। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর রিফান্ড প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে করে এনবিআরের কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি হাজির না হয়েই অনলাইনে আবেদন করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অতিরিক্ত ভ্যাট রিফান্ড পেতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে অনলাইনে রিফান্ড পেতে হলে অবশ্যই রিটার্নও জমা দিতে হবে অনলাইনে।

এনবিআর জানিয়েছে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) রিফান্ড বা ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি করদাতাদের ব্যাংক হিসাবে ভ্যাট রিফান্ড পাঠানোর মাধ্যমে এই পদ্ধতিটি চালু করা হচ্ছে। আয়কর ও কাস্টমস শুল্কসহ অন্যান্য করের রিফান্ডও ধাপে ধাপে এই অনলাইন পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

সূত্র বলছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদনের পর রিফান্ড পেতে ৬ মাস বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লেগে যেত। পুরোদমে অনলাইনে পদ্ধতিতে রিফান্ড ব্যবস্থা চালু হলে ৩ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

নতুন মডিউল যুক্ত করার পর করদাতাদের ই-মেইল ও মোবাইল ফোনে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ই-ভ্যাট সিস্টেমের লিংক পাঠাচ্ছে এনবিআর। সেই লিংকের মাধ্যমে সহজেই ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ সাব-মডিউল ব্যবহার করা যাবে। আগে দাখিল করা সব পেপার রিটার্ন আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত জরিমানা ও সুদ ছাড়াই ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে করদাতারা নিরবচ্ছিন্নভাবে ভবিষ্যতের সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন। একইসঙ্গে নতুন সাব-মডিউল চালুর ফলে যারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্ড কপি রিটার্ন দাখিল করেছেন, তারা কোনো সুদ ও জরিমানা ছাড়াই নিজেরাই ই-ভ্যাট সিস্টেমে রিটার্ন এন্ট্রি করতে পারবেন।

এমন উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে এবং কর প্রশাসনের পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্যে করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে এনবিআর।

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, আইন অনুযায়ী রিফান্ড পাওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিতভাবে বিলম্বিত হয়। বেশিরভাগ ভ্যাট রিফান্ড তৈরি হয় বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে, যাদের থেকে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর (এটি) কেটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে হিসাব সমন্বয়ের পর যদি দেখা যায়, প্রকৃত মূল্য সংযোজনে আগাম করের চেয়ে পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ কম হয়েছে, তাহলে আইন অনুযায়ী কর্তিত করের বাকী অংশ রিফান্ডযোগ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু এই রিফান্ড দাবি করা প্রচলিতভাবে দীর্ঘ ও ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কর অফিসে বারবার যেতে হত। এখন সেই দুর্ভোগ কমবে বলে খুশী ব্যবসায়ীরা। 

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেবল এনবিআরের ভ্যাটি উইংয়ের কাছে ব্যবসায়ীদের রিফান্ড তৈরি হয়ে আছে ১,৪৬৬ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশই বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে। এর বাইরে আয়কর ও কাস্টমস উইংয়ে কী পরিমাণ রিফান্ড সৃষ্টি হয়েছে, তার সামষ্টিক কোনো তথ্য এনবিআর থেকে পাওয়া যায়নি। তবে এনবিআর সূত্র জানায়, এর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা হবে।

ডিবিটেক/ডিপিটিবি/এমইউএম