চিকিৎসাব্যয় কমানো ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন

প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ পেলেন বিএমইউর ২৬৯ চিকিৎসক

রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমানো এবং বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৯ জন ফ্যাকাল্টি ও সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আইকিউএসির উদ্যোগে ১০টি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।

প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ পেলেন বিএমইউর ২৬৯ চিকিৎসক
২২ জুন, ২০২৬ ১৭:১০  

রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমানো এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বিভিন্ন বিভাগের ২৬৯ জন ফ্যাকাল্টি সদস্য ও সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন’ বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ১০টি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। ২২ জুন, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ১০ম ব্যাচের তিন দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির চর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স-বেইসড হেলথকেয়ার ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘এভিডেন্স অ্যাম্বাসেডর’ খেতাবও অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের পিকো ফ্রেমওয়ার্ক, মেডিক্যাল অডিটের গুরুত্ব এবং ক্লিনিক্যাল অডিট সাইকেলসহ আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গবেষণা, চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও ন্যায্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে চিকিৎসাব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নও সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রোগীর চাহিদা, মতামত ও অধিকার বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর বিকল্প নেই।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক নুরুন নাহার খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দীনে মুজাহিদ ফারুক ওসমানী।

বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।

//ডিবিটেক/জেডএন/ইকে//