ভারতে টেলিগ্রামের নিষেধাজ্ঞা বহাল, আদালতে আপিল খারিজ

ভারতে টেলিগ্রামের নিষেধাজ্ঞা বহাল, আদালতে আপিল খারিজ
২০ জুন, ২০২৬ ২০:৩৬  

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে সরকারের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে করা টেলিগ্রামের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। শুক্রবার (১৯ জুন) নয়াদিল্লির একটি আদালত রায় দিয়েছেন যে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মেসেজিং অ্যাপটির ওপর সরকারের জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ আইনি ও যৌক্তিক ছিল।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গত ১৬ জুন থেকে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহার সাময়িকভাবে ব্লক বা অবরুদ্ধ করে সরকার। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজার থাকা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি তেজস কারিয়া তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এবং জাতীয় পরীক্ষার সুরক্ষায় টেলিগ্রামের গণ-অ্যাক্সেস বন্ধ করার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, টেলিগ্রামের বিশেষ কিছু ফিচারের কারণে অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখা সহজ হয় এবং একবার কোনো ক্ষতিকর চ্যানেল বন্ধ করলেও খুব দ্রুত তা আবার তৈরি করা যায়। এই বেনামী যোগাযোগের সুবিধার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য অপরাধীদের শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, এর মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশ্নফাঁসের চক্রগুলো অন্য মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। আদালতে টেলিগ্রাম দাবি করে, তারা ইতিমধ্যেই পরীক্ষা সংক্রান্ত বেআইনি কনটেন্ট থাকা ৯০০টিরও বেশি লিঙ্ক নিজে থেকেই মুছে ফেলেছে। তবে সরকার পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি জালিয়াতি চক্রের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেনি।

এদিকে, আদালতের এই রায়ের পর বিশ্বজুড়ে মুক্ত বাকস্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন সংস্থা এবং ডিজিটাল অধিকার গ্রুপগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি চিন্তাজনক নজির স্থাপন করল, যার ফলে সরকার যখনই প্রয়োজন মনে করবে, তখনই যেকোনো যোগাযোগমাধ্যম বা অ্যাপ বন্ধ করার অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়ে যাবে। আদালতের এই আদেশের ফলে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

ডিবিটেক/বিএমটি   |   সূত্র :  রয়টার্স