অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেলে নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মার্কিন সরকারের জরুরি ও কঠোর নির্দেশনার পর শীর্ষ এআই ল্যাব অ্যানথ্রোপিক তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি এআই মডেল—‘ফেবল ৫’ এবং ‘মিথোস ৫’-এর বৈশ্বিক অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। গত শুক্রবারের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে শনিবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে কোম্পানিটি।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বা বাইরে থাকা যেকোনো ‘বিদেশি নাগরিক’, এমনকি তারা অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব কর্মী হলেও এই দুটি মডেল ব্যবহার করতে পারবেন না। এর ফলে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ডেভেলপার মুহূর্তেই এই সেবা দুটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে ‘ক্লড’-সহ অন্যান্য পুরোনো মডেলগুলো সচল থাকবে।
নেপথ্যে ‘জেলব্রেক’ আতঙ্ক
মার্কিন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিলেও সুনির্দিষ্ট কারণ খোলসা করেনি। তবে অ্যানথ্রোপিক মনে করছে, এর মূল কারণ ‘ফেবল ৫’ মডেলটির একটি বিশেষ ‘জেলব্রেক’ (নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ক্ষতিকর কাজ করানোর কৌশল) পদ্ধতি সরকারের নজরে আসা।
গত ৯ জুন উন্মুক্ত হওয়া এই মডেলটির বুদ্ধিমত্তা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ল্যাব টেস্টে এটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘পোকেমন ফায়াররেড’ গেমটিকে সম্পূর্ণ হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এই অতি-উন্নত বুদ্ধিমত্তাই মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মনে সাইবার যুদ্ধের বড় আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অ্যানথ্রোপিকের ক্ষোভ
অ্যানথ্রোপিক এক দীর্ঘ পোস্টে জানায়, পৃথিবীর কোনো এআই মডেলই ১০০% ‘জেলব্রেক-প্রুফ’ করা সম্ভব নয়। তারা ফেবলের অপব্যবহার রুখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছিল এবং একটি বেনামী সংস্থার মৌখিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন সরকার এই একতরফা ও আকস্মিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
সরকারের এই প্রক্রিয়াকরণকে একতরফা আখ্যা দিয়ে অ্যানথ্রোপিক বিবৃতিতে লিখেছে:
"সরকারের অবশ্যই অনিরাপদ এআই ব্লক করার ক্ষমতা থাকা উচিত, তবে তা হতে হবে একটি সংবিধিবদ্ধ, স্বচ্ছ ও স্পষ্ট প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। মার্কিন সরকারের এই আকস্মিক নির্দেশ কোনোভাবেই সেই নীতি মানেনি।"
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-এর আইপিও আবেদনের পরদিনই অ্যানথ্রোপিকের ওপর মার্কিন সরকারের এই খড়্গহস্ত হওয়া প্রমাণ করে—সিলিকন ভ্যালির ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





