ব্যাংকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নীতিমালা ডিসেম্বরে 

ব্যাংকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নীতিমালা ডিসেম্বরে 
৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:৩১  

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে জালিয়াতি প্রতিরোধ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস, অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়ানো ও উন্নত সেবার ব্যবস্থা করতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জন্য তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা। এতে মেশিন লার্নিং (এমএল) এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের গাইড লাইন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন এই কাঠামোর অধীনে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রস-বর্ডার ডেটা স্থানান্তরের ঝুঁকি প্রতিরোধ করার জন্য নিজস্ব লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম) এআই সিস্টেম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রণয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি বিভাগের অধীনে ৭ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করবে এই কমিটি।  

কমিটির প্রধান করা হয়েছে এন্টারপ্রাইস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (আইসিটি) ড. নুরুল্লাহ শাহীনকে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট-২ এর উপপরিচালক (আইসিটি) মো. বেলাল হোসেন ও মোহা. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াসবির চৌধুরী, কাজী মো. আরিফুল হক, মো. সাঈদ হাসান ও সায়েদ আবরার জাওয়াদ। এই টিমের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। টিমটি ইতোমধ্যে অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এআই নীতিমালা পর্যলোচনা শুরু করেছে। 

সূত্রমতে. নীতিমালায় এআই ব্যবহারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ডেটা যাতে কোনোভাবেই ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে তা নিশ্চিত করা হবে। এআইনির্ভর সিদ্ধান্ত যেন মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে তা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তাদের এআই ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এছাড়াও ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ, বাজার ঝুঁকি, ঋণ ঝুঁকি এবং তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। বৃহৎ পরিসরের অর্থনৈতিক ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা সম্পর্কে সময়োপযোগী ধারণা পাওয়া যাবে। ব্যাংকিং সিস্টেমে অনুপ্রবেশ, জাল লেনদেন বা হ্যাকিং প্রতিরোধে এআই-চালিত সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, জাল লেনদেন শনাক্তকরণ ও ব্যক্তিগতকৃত সেবা প্রদানে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া ব্যাংকের নীতি ও বিধিবিধান বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে এআই ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক জাকির হাসান আমাদের সময়কে বলেন, ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে এআইয়ের ব্যবহার নিরাপদ এবং যথাযথ করাই এ নীতিমালা করার লক্ষ্য। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ব্যাংক খাতে এআইয়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ এআইয়ের সীমিত ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পদক্ষেপ থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে কর্মংসংস্থান সংকুচিত হবে না, বরং সম্প্রসারিত হবে। কারও চাকরি যাবে না। উল্টো এআই ব্যবহারের দক্ষতা অর্জনকারীদের সহজে চাকরি হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ ব্যাংকের এআই সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা নেই, যেখানে ৪০ শতাংশ ব্যাংকের তা রয়েছে। এছাড়া, ৬৮ শতাংশ ব্যাংকের পরিচালনা নীতিমালায় এআই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে যে ৬৯ শতাংশ ব্যাংক আংশিকভাবে প্রস্তুত, ১১ শতাংশ প্রায় প্রস্তুত এবং ১১ শতাংশ ব্যাংক এআই বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিপরীতে, ৯ শতাংশ ব্যাংক প্রস্তুত নয়। বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংক দুর্যোগ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় এআই ব্যবহার করে, বাকি ৯৫ শতাংশ এই ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে না।