কচুয়ায় উদ্ভাবন প্রদর্শনী ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত:
মুখস্থনির্ভরতা ভেঙে শিক্ষাব্যবস্থা এখন প্রজেক্ট বেইজড, ভার্চুয়াল উদ্বোধনে শিক্ষামন্ত্রী
চাঁদপুরের কচুয়ায় মাউশির উদ্যোগে ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশ্রগ্রহণে স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডে উন্নীত করা হচ্ছে এবং মুখস্থনির্ভরতা ভেঙে শিক্ষাকে ইনোভেশন ও প্রজেক্ট বেইজড করা হয়েছে। মেলায় ২৯টি প্রজেক্টের মধ্যে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম স্থান অধিকার করে।
‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্ভাবনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সুদূরপ্রসারী ও যুগোপযোগী স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আয়োজনে ১২ জুন, শুক্রবার দুপুরে কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিজ্ঞান উৎসবে উপজেলার ৬টি কলেজসহ মোট ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুদে বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় আমরা অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নিয়ে যাব। সেই লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে কাজ শুরু করেছি। দেশের এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর একটি প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা অতীতে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর ট্র্যাডিশনাল শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সেটির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও প্রায়োগিক। বর্তমান যুগের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ইনোভেশন (উদ্ভাবন), স্টার্ট-আপ এবং প্রজেক্ট বেইজড (প্রকল্প নির্ভর)। যুগের এই আধুনিক চাহিদাকে এবং শিক্ষার সামগ্রিক গুরুত্বকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকারের নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
দিনব্যাপী এই মেলায় শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে মোট ২৯টি অত্যাধুনিক ও বাস্তবমুখী উদ্ভাবনী প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রজেক্টগুলোর কার্যকারিতা ও প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম স্থান অর্জন করে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া মেলায় সমাদৃত হয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে গুলবাহার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা এবং কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল আবেদিন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাস্টার আজিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওয়াদুদ মজুমদার এবং উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুন নবী সুমনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য সুধীজন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী।
//ডিবিটেক/ডিসি/ইকে//





