প্রকৌশলী হতে বিএসসি বাধ্যতামূলক করার দাবি

প্রকৌশলী হতে বিএসসি বাধ্যতামূলক করার দাবি
২৩ আগষ্ট, ২০২৫ ১১:৪৫  
২৩ আগষ্ট, ২০২৫ ২২:৪৮  

প্রকৌশলী হতে বিএসসি বাধ্যতামূলক করাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী পদে শতভাগ কোটা বাতিল এবং ইঞ্জিনিয়ার’ উপাধি শুধুমাত্র বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন। 

রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)–তে ২২ আগস্ট, শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই দাবি পুণর্ব্যক্ত করা হয়। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার পর সভায় বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কঠোর পরিশ্রম করে যারা প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জন করছেন, তাদের জন্য যেন চাকরির বাজারে দরজা একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে, ডিপ্লোমা সিন্ডিকেট আর শর্টকাট প্রমোশনের খেলায় ভর করে প্রকৌশল খাত দখল করে নিয়েছে এক বিশেষ গোষ্ঠী। “ইঞ্জিনিয়ার” শব্দটি তাই এখন মর্যাদার বদলে ব্যঙ্গের উপাধি হয়ে দাঁড়ানোর শঙ্কা তৈরি করেছে।

তারা জানান, সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেডে যেখানে ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি, সেখানে প্রকৌশল খাতের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ১০০% কোটা ডিপ্লোমাধারীদের জন্য। নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদেও প্রমোশনের নামে বিশেষ ছাড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে উঠেছে।

‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ২৪৫টি সহকারী প্রকৌশলী পদের মধ্যে ১৬০টি ডিপ্লোমাধারীদের দখলে।গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রমোশনের কোটা ৩৩% হলেও বাস্তবে ৪২% পদে বসে আছেন ডিপ্লোমাধারীরা।একই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও সিনিয়রিটির ক্ষেত্রে বিএসসি প্রকৌশলীদের জোর করে জুনিয়র বানিয়ে রাখা হচ্ছে’- যোগ করেন তারা। 

যেভাবে ডাক্তার হতে এমবিবিএস আর আইনজীবী হতে এলএলবি বাধ্যতামূলক, ইঞ্জিনিয়ার হতে কেন নয় বলেও প্রশ্ন রাখেন প্রকৌশলীরা। 

প্রকৌশলীরা আইইবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, আইইবি বছরের পর বছর ধরে নীরব থেকে ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনকারীদের ভাষায়, “আইইবি প্রকৌশলীদের ঘর নয়, বরং বৈষম্যের নাট্যমঞ্চে পরিণত হয়েছে।”

সভায় বক্তারা সতর্ক করেন—যদি বৈষম্য দূর না হয়, তবে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার কোনো মানে থাকবে না। যোগ্য প্রকৌশলীরা দেশ ছেড়ে বিদেশমুখী হবেন, আর দেশে টিকে থাকবে কেবল শর্টকাট সংস্কৃতি।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এম ওয়ালি উল্লাহ বলেন, "প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন শুধু ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে না বরং সামগ্রিকভাবে প্রকৌশল সেক্টরের বৈষম্য, অনিয়ম এবং অকার্যকারীতা দূরীকরণে দৃঢ় ভূমিকা রাখবে। এ আন্দোলন প্রকৌশলীদের  ঐক্যের এক ঐতিহাসিক উদাহরণ হয়ে থাকবে।"