এআই বলছে স্পেন, কিংবা ফ্রান্স; নাম নেই- ব্রাজিলের
বিশ্বকাপ ভবিষ্যদ্বাণীতে নতুন ‘অক্টোপাস’ এখন চ্যাটবট
বিশ্বকাপ ভবিষ্যদ্বাণীতে নতুন আলোচনার কেন্দ্র এখন এআই। ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে এআই চ্যাটবটগুলো। চ্যাটজিপিটি ও ক্লদ দেখছে স্পেনকে, ফরাসি মডেল বলছে ফ্রান্স, আর চীনের ডিপসিক ও কুয়েন এগিয়ে রাখছে আর্জেন্টিনাকে। তবে গবেষকেরা বলছেন—এআই সম্ভাবনা দেখায়, ফল নির্ধারণ করে না।
২০২২ বিশ্বকাপের সময় জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছিল প্রযুক্তি জগতের উদীয়মান আলোচ্য বিষয়। তখনও খুব কম মানুষ কল্পনা করেছিলেন, একদিন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন বাছাইয়েও এআই হয়ে উঠবে আলোচনার কেন্দ্র। চার বছর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে গবেষক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান—অনেকেই বিশ্বকাপ ভবিষ্যদ্বাণীতে শরণাপন্ন হচ্ছেন এআই চ্যাটবটের।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও গবেষণা উদ্যোগগুলো বড় ভাষাভিত্তিক মডেলগুলোর (এলএলএম) পূর্বাভাস পরীক্ষা করছে। আর সেই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল।
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লদ এবং আরও কয়েকটি পশ্চিমা এআই মডেল সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনকে এগিয়ে রাখছে। তাদের দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্স।
প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যম টমস গাইড একই প্রশ্ন করেছিল জেমিনাই, চ্যাটজিপিটি এবং পারপ্লেক্সিটিকে। তিনটি মডেলই স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চিহ্নিত করে। ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকরাও তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছেন, মাইক্রোসফটের কোপাইলট স্পেন ও ফ্রান্সকে প্রায় সমান সম্ভাবনাময় দল হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
অন্যদিকে পশ্চিমা মডেলের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় চীনের এআই প্ল্যাটফর্মগুলো। চীনা চ্যাটবট ডিপসিক ও কুয়েন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সম্ভাব্য শিরোপাধারী হিসেবে দেখছে। একইভাবে ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘ল্য শা’ নিজেদের বিশ্লেষণে ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেছে।
এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো তুলনা। একসময় ফুটবল বিশ্বকাপের ফল অনুমানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘পল দ্য অক্টোপাস’-এর জায়গায় এখন যেন প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাসের নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে এআই।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করছেন—এআইয়ের ভবিষ্যদ্বাণীকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
জার্মানির লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ‘এলএলএম সকারএরিনা’ নামে একটি উদ্যোগে বিভিন্ন এআই মডেলের ম্যাচভিত্তিক পূর্বাভাস ও বাস্তব ফলাফলের মধ্যে মিল বিশ্লেষণ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক স্টেফান ফয়েররিগেল এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলগুলো বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কতটা নির্ভরযোগ্য—তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাই তারা পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ফলাফল তুলনা করে মডেলগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই মূলত ঐতিহাসিক তথ্য, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াড গভীরতা, ইনজুরি, র্যাঙ্কিং ও জনপরিসরের তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাবনা তৈরি করে। ফলে এটি ভবিষ্যৎ ‘জানে’ না; বরং সম্ভাবনার একটি কাঠামো তৈরি করে।
তবু ফুটবলের অনিশ্চয়তার সৌন্দর্য এখানেই—অ্যালগরিদম যা-ই বলুক, শেষ কথা বলবে মাঠ।
//ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে//





