যৌথ উদ্যোগে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান
- পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সমন্বিত উদ্যোগের জোর দাবি
- ২০২৬ সালে পাঁচ কোটি ১৪ লাখের বেশি চারা রোপণের বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ
- ডিসেম্বরের মধ্যে ম্যানগ্রোভ রোপণ শেষে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত
বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের এই কর্মসূচি সফল করতে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কেবল চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী স্থানিক উপযোগী দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত চারা দ্রুত প্রতিস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ পরবর্তী চার বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্যমতে, বিভিন্ন এনজিও ইতোমধ্যে ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে। আগামী ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণ শেষে এ বছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে জানানো হয়।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, পানিসম্পদ, রেলপথসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো: জামাইল বশীর জেবি এবং প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদ অংশ নেন।
//ডিবিটেক/টিএইচপি/এসএমই/এমআইএস//





