নির্বাচনে এআই ব্যবহার ঝুঁকির বিষয়ে ‘সুজন’র উদ্বেগ

নির্বাচনে এআই ব্যবহার ঝুঁকির বিষয়ে ‘সুজন’র উদ্বেগ
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩৮  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচারের ঝুঁকির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা এবং অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘নমনীয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

২৪ জানুয়ারি, শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচারের ঝুঁকির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন এআই এর যুগে অনেক কিছু করা সম্ভব। অতীতেও করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরাও হতে পারে। নির্বাচনের দিন কোনো প্রার্থী মারা গেছেন বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন—এআই ব্যবহার করে এমন অপতথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। আরও তৎপর হবে। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট নিয়েও বিতর্কের সুযোগ আছে, যা পুরো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। 

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত অভিযোগে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রার্থীদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের তথ্য দেখে ‘অনেক প্রার্থী তথ্য গোপন করেছেন’ জনমনে এমন ধারণা জোরালো। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন কি বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছে? প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কি নমনীয় ছিল? এই ধারণাগুলোর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা থাকলেও তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। 

এসময় দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারীবিদ্বেষী ও নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরা কারবারী, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ভূমিদস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিক অর্থাৎ কোনো অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান  দিলীপ কুমার সরকার। 

ডিবিটেক/পিএএন/ইকে