কলম বিরতিতে যাচ্ছে বিটিআরসি? টেলিকম খাতে নতুন শঙ্কা
জনরোষে পতিত সরকারের সময়ে নজরদারি ডিভাইস ব্যবহার নিয়ে এনটিএমসি'র সমালোচনা ছাপিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিটিআরসি। নামের সঙ্গে থাকা 'নিয়ন্ত্রক' শব্দের অস্বস্তি দূর করতে 'ফ্যাসিলেটর' হবার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয় কমিশন কর্তাদের কণ্ঠে। রাজনৈতিক মদদে কতিপয় লাইসেন্সিদের অপকর্মের দায় থেকে মুক্তির অভিপ্রায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বায়ত্তশাসন ফিরে পেতে গত ১৬ এপ্রিল কমিশন থেকে চিঠি দেওয়া হয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে।
চিঠিতে ২০১০ সালে টেলিযোগাযোগ আইনে সংশোধন করে যুক্ত করা লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, লাইসেন্সের নাম পরিবর্তন, ট্যারিফ অনুমোদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের ঘোরটোপ থেকে মুক্ত হবার আবেদন করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারনেট বন্ধের পথ বন্ধ করে 'পঁচন ধরা' পুরোনো লাইসেন্সিং কাঠামো ঢেলে সাজিয়ে তিন স্তরে নতুন লাইসেন্সিং যুগের সূচনা করতে প্রস্তুত করা হয় টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ ২০২৫। নতুন এই আইনে বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহৃত এই রাষ্ট্রিয় সংস্থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অধীনে আনতে কমিশনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা গ্রহণের আগে ১২ সদস্যের একটি কমিটির ছাড় পত্র নেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ নীতি বিশেষজ্ঞ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে অভিজ্ঞ দুজন প্রযুক্তিবিদ, টেলিযোগাযোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ দুজন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে রাখার বিধান রাখা হয়।
তবে এই ব্যবস্থাপনা বিটিআরসি'র স্বাধীন স্বত্বাকে আরও 'আজ্ঞাবহ' করবে বলে মনে করে কমিশন কর্তারা। তাই তারা ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ আইনে ফিরে যেতে চেয়ে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ধারা ৩০ থেকে ৩৬ এ থাকা নিয়মের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে। গত ৪ নভেম্বর সংশোধিত আইনের খসড়া প্রকাশের পর দিন ৫ নভেম্বর বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী গণমাধ্যমে বলেছিলেন, জবাবদিহি ও স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। পূর্বানুমোদন যদি প্রতি পদে পদে হয় সেটা জবাবদিহি নয়, নিয়ন্ত্রণ। যেখানে বিটিআরসি নিজেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পূর্বানুমোদনের বিষয় পদে পদে থাকলে তা বিটিআরসি নিজের স্পিরিটের বিপক্ষে যায়।
সূত্রমতে, ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার ওই খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে তা কার্যকর হবে। তবে নতুন আইনে স্বাধীনতা না পেলে কলম বিরতিতে যেতে পারের বিটিআরসি'র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা মনে করেন, এই আইন পাস হলে অস্তিত্ব সংকটের হুমকিতে পড়বে বিটিআরসি। এজন্যই নাম প্রকাশ না করে বুধবার বিকেলেই কলমবিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতিতে যাওয়ার আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে । তবে কেউই নাম প্রকাশ করে তা বলতে রাজি হননি।
তবে নতুন আইন বৈষম্যমূলক অবস্থা থেকে ভারসম্যমূলক অবস্থায় রূপান্তরিত করবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। পক্ষপাতদুষ্টতা মুক্ত ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণে একাধিক কনসাল্টেশনের মাধ্যমেই নতুন আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর বাস্তবায়নে শুল্ক ফাঁকি দেয়ে বিদেশ থেকে আনা ফোন নিবন্ধনে আনতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন বিশেষ সহকারী। লাইসেন্স কাঠামোর কিছু স্তর বিলুপ্ত করা ও সুযোগেের বৈষম্য নিয়ে বিগত সময়ের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা চাপে আছেন তিনি। এমন কি এনইআইআর বাস্তবায়নের পরও তিন মাস ব্যাগেজ পার্টির গ্রে ফোন বাজারে বিক্রির সুযোগ দেয়ার পরও তার পদত্যাগেের।দাবিতে রাজপথে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে। এর সঙ্গে বিটিআরসি কর্মীরা যুক্ত হলে তা শঙ্কার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিবিটেক/এমইউএম/ইকে







