রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি বাতিল চেয়ে রিট

রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি বাতিল চেয়ে রিট
১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:২৩  

বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের টিকিট বিক্রির চুক্তি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটে রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তির বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশের আবেদন জানিয়ে রিটটি করেছেন অ্যাডভোকেট মিয়াজি আলমগীর আলম চৌধুরী।

রিটে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার দুই মিনিটেই রেলের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ কী- তা জানানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের টিকিটের ক্রাইসিস নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রেলপথ সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) এবং সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী নিজে রিট দায়েরের বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন ।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবরবাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের করা ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ চুক্তি বাতিল চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। রেজিস্ট্রার ডাকযোগে রেলপথ সচিব, আইন সচিব, পরিকল্পনা সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) এবং সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিয়াজী আলমগীর আলম চৌধুরী এই নোটিশ পাঠান। নোটিশ বলা হয়েছিল, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উচ্চ আদালতে এর প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় রিটটি করা হলো।

আইনজীবী মিয়াজী আলমগীর আলম চৌধুরী বলেন, রেলওয়ের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটটি ভার্চুয়াল গেট খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাখ লাখ হিট দিয়ে ভরে যায়। জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলে যাওয়া বেশিরভাগ ট্রেনের টিকিট তাৎক্ষণিক বিক্রি হয়ে যায়। এর ফলে টিকিট মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায় এবং অসংখ্য আগ্রহী যাত্রীর মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ ই-টিকিট ব্যবস্থা আরোপের মাধ্যমে জনগণের চলাচলের ওপর অযথা শর্ত ও ভোগান্তি আরোপ করা হয়েছে। এটি মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। এ বিষয়ে সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেছেন, ‘দুই মিনিটে টিকিট শেষ, এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না’।

নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তির শর্তাবলি জনসম্মুখে প্রকাশ করা, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রশ্নবিদ্ধ চুক্তি স্থগিত করা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পূর্ণ ই-টিকিট ক্রয় ব্যবস্থা বাতিল করতে আবেদন করা হয়। এছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব ক্ষমতা অনুসারে ম্যানুয়াল টিকিটিং ব্যবস্থাসহ আনুপাতিক ই-টিকিট ক্রয় ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতেও বলা হয় নোটিশে।