ঢাকা কম্পিউটার সিটি’র লোগো উন্মোচন

ঢাকা কম্পিউটার সিটি’র লোগো উন্মোচন
১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:৫২  

বাগান, ফুড কোর্ট, ডাবল বেজমেন্ট পার্কিং ও এন্টরটেইনমেন্ট সুবিধা নিয়ে রাজধানীর ইস্কাটনে ১৩ কাঠা জায়গার ওপর ৬ কাঠা জুড়ে ১৫ তলা ভবন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো ঢাকা কম্পিউটার সিটি (ডিসিসি)।  বিসিএস কম্পিউটার সিটি এবং মাল্টিপ্লানের ইসিএস কম্পিউটার সিটির মধ্যভাগে স্থাপন করা হলো নতুন আরেকটি আইটি মার্কেট। রামপুরা, বনশ্রী, গুলশান, ওয়েসিস, মগবাজার, বেইলিরোডসহ অভিজাত ক্রেতাদের টার্গেট করে ৯ নভেম্বর, রবিবার রাতে কেক কেটে উন্মোচন করা হলো ডিসিসি’র লোগো। 

 নতুন এই আইটি বাজারের লোগো উন্মোচন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এসময় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) পরিচালক ও ওয়েলকিন কম্পিউটার্স-এর স্বত্বাধিকারী এবং ঢাকা কম্পিউটার সিটি-এর অন্যতম উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম হাজারী ছাড়াও আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এর ডিএমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভূঁইয়া গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শামীম এহসান, মার্ভেলাস কম্পিউটারের প্রধান নোমান সিকদার, টেকনো গ্রুপ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সেলিম  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

লোগো উন্মোচনের আগে ডিসিসি’র বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। নতুন এই আইটি মার্কেটের সফলতার জন্য শুভ কামনা করেন এই খাতের ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতারা। 

ঢাকা কম্পিউটার সিটি'র উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি হবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক আইটি বাণিজ্যিক ভবন। এখানে থাকছে রেডি দোকান ও অফিস স্পেস, যা পাওয়া যাবে ভাড়ার টাকায় সাব কাবলা (জমির) মালিকানা পদ্ধতিতে। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা পাবেন ব্যাংক লোন ও সহজ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু সহজ করে তুলবে। এছাড়াও  ঢাকা কম্পিউটার সিটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ফায়ার সেফটি সিস্টেম, স্মার্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট, পর্যাপ্ত পার্কিং, ব্যাকআপ জেনারেটর, হাই-স্পিড লিফট, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা। পাশাপাশি ভবনজুড়ে থাকবে সিসিটিভি মনিটরিং, ফায়ার অ্যালার্ম ও স্মার্ট অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম। 

অনুষ্ঠানে জানানা হয়, প্রযুক্তি পণ্যের ডিস্ট্রিবিউটর, রিসেলার, ই-কমার্স ব্যবসায়ী, মোবাইল ও হার্ডওয়্যার কোম্পানিগুলোর জন্য এই প্রকল্প হতে যাচ্ছে আদর্শ কেন্দ্র। এখানে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সার্ভার, রোবটিক্স, সিসিটিভি ও আইওটি পণ্যের সমন্বিত প্রদর্শনী ও বিক্রয় সুবিধা থাকবে। ইতিমধ্যেই মার্কেটের ৫০ শতাংশ স্পেস বিক্রি হয়ে গেছে। ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্টে ৩০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করে সাব কাবলা দলিলে মিলবে ৭০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ। ভাড়ার টাকাতেও মালিকানা পেয়ে যাবেন উদ্যোক্তারা।  

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) পরিচালক ও ওয়েলকিন কম্পিউটার্স-এর স্বত্বাধিকারী এবং ঢাকা কম্পিউটার সিটি-এর অন্যতম উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম হাজারী বলেন, আমরা আইটি ব্যবসায়ীদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করছি, যা তাদের জন্য স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেবে। ২০০৬ সালে আমরা ‘বিসিএস কম্পিউটার সিটি’ মাল্টিপ্লান সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, এখন ‘ঢাকা কম্পিউটার সিটি’ সেই সাফল্যেরই পরবর্তী ধাপ। এখানে ব্যবসায়ীরা মালিকানা সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি ব্যাংক লোন ও সহজ কিস্তিতে দোকান কেনার সুযোগ থাকছে।

স্মার্ট টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের পরিচালক মোঃ মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন বলেন,  কেবলস্থান হিসেবেই নয়, সমমনা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দূরদর্শীতায় ডিসিসি একটি শক্ত ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা সফল হবে। কেননা এখনও মানুষ মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

ঢাকা কম্পিউটার সিটি পরিচালক এবং টেকনো গ্রুপ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সেলিম বলেন, ঢাকা কম্পিউটার সিটি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের আইটি হাব। আমাদের লক্ষ্য, রাজধানীতে এমন একটি স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা একত্রে কাজ করতে পারবেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো দিয়ে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলছি। এটি দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আল আরাফাহ ব্যাংকের স্কাটন শাখার ম্যানেজার জফর আহমেদ,  গ্লোবাল ব্রান্ড প্রাইভেট লিমিটেড'র ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের প্রধান সমীর কুমার দাশ, ইসিএস জেনারেল সেক্রটারি শরিফুল ইসলাম সোহেল ইসিএস'র ট্রেজারার নাসির, এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার সমিতির সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম সোহেল, ইসিএস ডিরেক্টর নোমান শিকদার, ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া প্রমুখ। 

ডিবিটেক/আইএইচ/