শাবিপ্রবি’র প্রধান ফটক নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাক্ষর বহনে ব্যর্থ-এমন অভিযোগে ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের ফটক। নতুন স্থাপনা হলেও দৃশ্যমান স্থানে নাম ফলক না থাকায় এই অভিযোগ তাদের। পৃথক দুটি স্তম্ভে তৈরি ফটকের পাশের দেয়ালে ছোট করে লেখা নামে, আলো না থাকায় রাত হলে সেটাও চোখে পড়ে না। নকশায় ভিন্নতা আনলেও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনায় ফটকের সামনের অংশ যেন পরিণত হয়েছে ডোবা-নালায়। এমন পরিস্থিতিতে “এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক নয়, বরং কোনো শিল্প কারখানার প্রবেশপথ” বলে তীর্যক মন্তব্যও করতে শোনা যায় ক্যাম্পাসে।
একইভাবে প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপযুক্ত যাত্রী ছাউনি ও বাস স্টপেজ নেই। ফলে প্রতিদিন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে বাসে উঠতে এবং নামতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। গ্রীষ্মের তীব্র রোদ কিংবা বর্ষার বৃষ্টির ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এতেও ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম সজিব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গেট নির্মাণের সময় আগের যাত্রী ছাউনিটি ভেঙে ফেলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের গেট থেকে বাসে উঠতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তীব্র গরমে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কিংবা বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেননা, এখন গোল চত্বরে যে ছাউনি আছে তা খুবই ছোট, যেখানে বৃষ্টি বা রোদের সময় একসাথে ৫০ জনের বেশি দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, পূর্বের মতো একটি প্রশস্ত ও সুবিধাজনক যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হোক।
এদিকে, ২০২৩ সালের ২৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রধান ফটকটি ভেঙে ফেলা হয়। সেই ফটকের উপরে বড় করে লেখা ছিল “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”। পরে নির্মাণ করা হয় বর্তমান ফটক। তবে এর নকশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। তাদের অনেকের দাবি, এটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের মতোই মনে হয় না।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাদির আহমেদ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দেখলে মনে হয় যেন শুধু একটি স্তম্ভ দাঁড় করানো হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আকর্ষণই থাকে সেই ফটকটি। নতুন শিক্ষার্থীরা নাম-সম্বলিত ফটকের সামনে ছবি তুলে জানান দেয় যে, তারা এই ক্যাম্পাসের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি শুধু এক পাশেই লেখা আছে, ফলে অন্য দিক দিয়ে আসলে সেটি চোখেই পড়ে না। ৩২০ একরের সবুজময় এই ক্যাম্পাসের এই প্রধান ফটক মানানসই না। প্রশাসনের এটা সংস্কার করবেন বলে প্রত্যাশা তার।
একইভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কফিল আহমেদ বললেন, “যদিও ফটকের পাশের দেয়ালে ছোট করে লেখা আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, তবে সেখানে রাতে আলো না জ্বলায় সেটাও চোখে পড়ে না।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রশাসনকে নিয়ে আর কী বলব! একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার ফটকে বা ফটকের সামনে থেকে। অথচ এখানে নামহীন একটি স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে ফটক হিসেবে। আবার সামনেই বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে, মনে হয় এটি রাস্তা নয় আস্ত এক ডুবা। বিশ্ববিদ্যালয় দেখভালের যেন কেউ নেই।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





