ই-কমার্সে বার্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যাটবট ‘বটপ্লো’
ই-কমার্স বা এফ কমার্সে ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন শত শত গ্রাহক পণ্য বা সেবার তথ্য জানতে চান। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সবসময় অনলাইনে থেকে উত্তর দিতে না পারায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক উদ্যোক্তা এই চাপ সামলাতে না পেরে দীর্ঘদিনের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতেও বাধ্য হয়েছেন। গ্রাহকের এমন বেশুমার বার্তা ব্যবস্থাপনায় ‘বটপ্লো’ নামে নতুন একটি চ্যাটবট তৈরি করেছে নীলফামারীর তরুণ উদ্যোক্তা রাকিব ইসলাম ও জোসেফ আহসান।
তাদের উদ্ভাবিত এই স্বয়ংক্রিয় বার্তা সহকারীটি (চ্যাটবট) ২৮ আগস্ট, বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী হাকিম (নেজারত ও কোষাগার শাখা) সায়ীদ মুহাম্মদ।
এসময় উদ্ভাবকেরা জানান, বটপ্লো’র মাধ্যমে ব্যবসায়ী তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার বিস্তারিত তথ্য একবার দিয়ে রাখলেই, পরবর্তীতে গ্রাহক যেকোনো প্রশ্ন করলে এই ব্যবস্থা নিজে থেকেই সঠিক উত্তর দেবে। ফলে ব্যবসায়ীদের সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হবে না, তবে গ্রাহক তাৎক্ষণিক উত্তর পেয়ে যাবেন।
তরুণ উদ্যোক্তা রাকিব ইসলাম বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন শত শত বার্তার উত্তর দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এতে সময় নষ্ট হয়, মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং গ্রাহকরাও সন্তুষ্ট হন না। ‘বটপোলো’ এই সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। গ্রাহক সব সময়ই স্বয়ংক্রিয় উত্তর পাবেন, আর ব্যবসায়ী নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। বর্তমানে এটি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ওয়েবসাইটে কাজ করছে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতার (ফেসবুক) সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটিও সম্পন্ন হবে। তখন সব মাধ্যমে গ্রাহকের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এমন স্বয়ংক্রিয় বার্তা সহকারী একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন, যাদের আলাদা গ্রাহকসেবা দল রাখার সুযোগ নেই। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি বার্তা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সময়মতো উত্তর দিতে না পারলে গ্রাহক হারানোর আশঙ্কা থাকে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বিক্রির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, ‘বটপ্লো’ দেশের অনলাইন ব্যবসার গ্রাহকসেবা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহযোগী উদ্যোক্তা আবু আদনান সিদ্দিক, রাহিদুল ইসলাম রনি, রোকনুল হক শুভ, রাসেল খান হৃদয় এবং সুজন ইসলাম সানজিদ। তারা উপস্থিত সবাইকে এই চ্যাট সহকারীর কার্যপ্রণালি ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।







